‘যার দিকে চোখ গেছে তাকে ধর্ষণ করেছে রুহুল আমিন’

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৭:১৪ পিএম

নোয়াখালীর সূবর্ণচরের আলোচিত ধর্ষণের ঘটনার মূল আসামি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আরো নারীকে ধর্ষণসহ, হত্যা, দখল- উচ্ছেদের মতো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ওই এলাকার এক নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘যার দিকে চোখ গেছে রুহুল আমিন তাকে ধর্ষণ করেছে।‘

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, রুহুল আমিন আটক থাকলেও তার বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড আবদুর রব, সেলিম, জনু মাঝি, হাসিম, নুর ইসলাম, শাহাব উদ্দিন এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

রুহুল আমিন ও তার বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে বেড়ান এলাকার ভূমিহীন বিধবা আয়েশা খাতুন (৫০) জানান, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় রুহুল আমিনের প্রধান সহযোগী আবদুর রব ও সেলিম হুমকি দিয়েছে আমাকে ও আমার দুই মেয়েকে নির্যাতন করবে।

একই এলাকার রহিমা খাতুন জানান, রুহুল আমিন মেম্বার, আবদুল খালেক, রুবেল, মনির ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তার মেয়ে ইয়াসনুর বেগমকে (১৮) নির্যাতন করে হত্যা করে। হত্যার পরদিন থেকে ৪/৫ বার চরজব্বর থানায় গেলেও ওসি মামলা না নিয়ে ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, পরে উপায় না দেখে দু’দিন পর নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ শামছুউদ্দিন খালেদের আদালতে মামলা করলে আদালত অভিযোগ হিসেবে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। এ আদেশ পাওয়ার পরও পুলিশ প্রায় এক মাস মামলা রেকর্ড করতে বাধ্য হন। তবে রুহুল আমিন বা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এলাকার আমেনা খাতুন (২৫) জানান, রুহুল আমিন এ চরের যে নারীর দিকে চোখ দিয়েছে তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। কেউ থানা পর্যন্ত গেলে পুলিশের ধমক খেয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে।

এভাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো ৮/১০ জন নারী সঙ্গে এ প্রতিনিধির কথা হয়েছে। রুহুল আমিন তাদের স্বামীকে ডেকে নিয়ে ক্লাব ঘরে আটকে রাখত এবং বাড়ি গিয়ে দলবল নিয়ে নারীদের নির্যাতন করত।

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলশিক্ষক জানান, ছোটবেলায় গ্রামের চা দোকানের কর্মচারী, হোটেলের বয় ও জেলা শহর মাইজদীর বাসায় বাসায় কাজ করত রুহুল আমিন। সেখান থেকে সুবর্ণচর উপজেলার একটি এনজিওতে চাকরি নেয়। সেখান থেকে ৭০ হাজার টাকা চুরি করে ঢাকায় পালিয়ে যায় এবং ঢাকার কাওরানবাজারে এক সবজির আড়তে কাজ নেয়।

তিনি জানান, সেখান থেকেও মোটা অংকের টাকা আত্মসাত করে বরিশাল পালিয়ে যায়। পরে এলাকায় এসে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পায়। ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫নং চরজুবলী ইউনিয়নে ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচিত হয়। এরপর সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সে বনদস্যু ও জলদস্যুদের সংঘটিত করে রুহুল আমিন বাহিনী নামে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে জনপদে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

ওই শিক্ষক আরো জানান, এলাকায় গরু লুট, ঘরবাড়ি-জমি দখল, চোরা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা বেচাকেনা এবং ডাকাতি করে সে এলাকায় প্রসাদোপম বাড়ি এবং প্রচুর ভূমি, সম্পত্তিসহ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। এ বছর সে ভূমিহীনদের জমি দখল করে একটি ব্রিকফিল্ড চালু করে।

এদিকে এ মামলার ২ আসামি সোহেল ও জসিম বুধবার বিকেলে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনিতা গুহের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ডিবি অফিস সূত্র জানায়, রিমান্ডে থাকা সাতজনের মধ্যে সোহেল ও জসিম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় বেলা ২টায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার এজাহারভূক্ত আসামি সোহেল ও এজাহার বহির্ভূত আসামি জসিমকে আদালতে প্রেরণ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত