মাদ্রাসা ছাড়তে চাওয়ায় ছাত্রকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৫০ পিএম

লক্ষ্মীপুরে ইয়াছিন আরাফাত নামে এক ছাত্রকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের পশ্চিম লাহারকান্দি এলাকায় রওযাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনে গুরুতর আহত ছাত্রকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের ফয়েজী পলাতক রয়েছেন। আহত ছাত্র লাহারকান্দি গ্রামের আব্দুর লতিফের ছেলে।

আহত ছাত্রের ভগ্নীপতি মো. সলিম জানান, হিফজুল কোরআন বিভাগের ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত বেশ কিছু সমস্যার জন্য বর্তমান মাদ্রাসা হতে অন্যত্র ভর্তি হতে চাইলে শিক্ষক আবদুল কাদের ফয়েজী ক্ষিপ্ত হয়ে আরাফাতকে শিকলে বেঁধে রাখেন এবং মারধর করেন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

image

আহত ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত বলেন, বুধবার রাতে আমি এশার নামাজের পর বাড়িতে যাই। বৃহস্পতিবার সকালে মাদ্রাসায় আসার পর কাদের হুজুর আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে জামার কলার চেপে ধরে ছুড়ে মারলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে আমি দেখতে পাই আমার পা শিকল দিয়ে বাঁধা।

আহত ছাত্রের আত্মীয় মো. শাহ আলম জানান, আরাফাতকে মারধর করা হতো প্রায়ই। মাদ্রাসা থেকে যেন বের হয়ে বাড়ি যেতে না পারে সেজন্য তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হতো।

তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়ে তাকে শিকল বাঁধা অবস্থায় আরাফাতকে উদ্ধার করি। আমি উক্ত শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, আরাফাতের পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ সময় তার বাম পায়ে শিকল বাঁধা ছিলো। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের ফয়েজী পলাতক থাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে অন্য শিক্ষকরা কথা বলতে রাজি হননি।

জেলা পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত