বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মধুপুরে ধর্মঘটের ৩ মাস পর কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪২ এএম

টাঙ্গাইলের মধুপুর জোনের ৫ রাবার বাগানে ধর্মঘটের ৩ মাস পর কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা। বাগানের পিচমিল টেপিং শ্রমিকরা ৪ দফা দাবিতে টানা ৩ মাস ধরে ধর্মঘট পালন করে আসছিল।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশক্রমে তার প্রতিনিধি দল, বশিউক প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন  বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বশিউক) এর মধুপুর জোনের জেনারেল ম্যানেজার তারেক মো. আজাদ।

শনিবার বিকেলে পীরগাছা রাবার বাগানে বসে আলোচনা করে শ্রমিকদের দাবি পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়ে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করা হয়। আলোচনা সভায় শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার ঘোষণা দেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিনিধি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী, মধুপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিক হোসেন খান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বশিউক) এর মধুপুর জোনের জেনারেল ম্যানেজার তারেক মো. আজাদ, মধুপুর রাবার জোনের ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) ওয়ালিউর রহমান প্রমুখ।

জানা গেছে, বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বশিউক) এর আওতাধীন মধুপুর-শেরপুর জোনের ৫ রাবার বাগান পীরগাছা, চাঁদপুর, কমলাপুর, সন্তোষপুর ও কর্নজোড়া রাবার বাগানের পিচমিল টেপিং শ্রমিকরা গত ১৩ অক্টোবর থেকে টেপিং বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেছে।

২০০০ সাল থেকে পিচমিল শ্রমিক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত যে সকল শ্রমিক বর্তমানে টেপিং কাজে সংযুক্ত আছে এবং কষ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ, অস্থায়ীভাবে পিচমিল নিয়ম বাতিল করে মাসিক মাস্টার রোল ভিত্তিক নিয়মিত শ্রমিকের সমপরিমাণ মজুরি প্রদান, কারখানায় শ্রমিকদের মাস্টার রোলে মাসিক ১৫ হাজার টাকা মজুরি প্রদান ও বাগানের যাতায়াতের জন্য মেইন রোড মেরামত পূর্বক ইট বিছানোসহ ৪ দফা দাবিতে পাঁচ রাবার বাগানের প্রায় ১৬’শ শ্রমিক ১৪ দিন ধরে ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের সাপ্তাহিক ছুটি নেই, ঈদের ছুটি নেই, মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই, বৃষ্টি হলে কাজ নেই। চাকরি শেষে এককালীন ভাতা নেই। বাগানে কাজ করতে গিয়ে সাপে কামড় দিলে এবং চোখে কষ ও ছাল গেলে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় না।

তারা বলেন, শ্রম আইনে বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত