নগরের স্কুল-কলেজের সামনে থাকা বিড়ি-সিগারেটের দোকান এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়েছেন খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম।
রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাংসদ শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘আমার নির্বাচনী ইশতেহারে মাদক, ভূমি দখল, চাঁদাবাজ এবং ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলাম। খুলনার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। খুলনার উন্নয়নের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা হবে এবং একটি মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেল, পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম শফিউল্লাহ প্রমুখ।
তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘বর্তমানে খুলনার মূল সমস্যা যানজটের পেছনে রয়েছে অবৈধ মাহেন্দ্র, ব্যাটারিচালিত অটোরিশা এবং ইজিবাইক। একসময় এক হাজার ৮০০ ইজিবাইককে লাইসেন্স দেওয়া হলেও এখন সে সংখ্যা ৩০ হতে ৪০ হাজার। আগামী ১৫ তারিখের পর শহরের বাইরে থেকে কোনো ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে পারবে না।’
সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের কোনো সদস্য মাদকের পয়সা গ্রহণ করবে না। মাদক নিয়ে নিরীহ লোককে হয়রানি করা হবে না। স্কুল-কলেজের সামনে বিড়ি- সিগারেটের দোকান এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদ করা হবে। মাদক ও ভূমিদস্যুদের জন্য তদবিরকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে।’
খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় গত ডিসেম্বর মাসে একটি চুরি, একটি খুন, একটি ধর্ষণ, দুটি অপহরণ, পাঁচটি নারী ও শিশু নির্যাতন, ৬৬টি মাদকদ্রব্য এবং অন্যান্য ৫৫টিসহ মোট ১২৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৯৪টি।
মহানগরীর আটটি থানায় গত বছরের ডিসেম্বরে চুরির পাঁচটি, খুনের তিনটি, ধর্ষণের পাঁচটি, নারী ও শিশু নির্যাতনের আটটি, মাদকদ্রব্যের ১০৩টি এবং অন্যান্য আইনে ২৫টিসহ ১৪৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। নভেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ২১৯টি।
