বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জিম্বাবুয়েতে সহিংসতা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১০ এএম

সরকারি সিদ্ধান্তে জ্বালানির মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর প্রতিবাদে জিম্বাবুয়ের রাস্তায় নেমে এসেছে সাধারণ জনগণ। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করেছে। এ সময় বেশ কয়েকজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। সহিংসতা ছড়ানো বন্ধ করতে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধাও আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ গতকাল মঙ্গলবারেও রাজধানী হারারে এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর বুলাওয়েতে চলে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে এবং পরিবহন শ্রমিকরা বাস বন্ধ রাখে। বুলাওয়েতে শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে যাওয়া মিনিবাসগুলোতে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে।

শহরে প্রবেশের প্রধান রাস্তায় প্রতিবন্ধক স্থাপন করে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা শঙ্কায় শহরটির স্কুলগুলো বন্ধ রেখেছে কর্র্তৃপক্ষ। বুলাওয়েতে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করে এবং সেখানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। বুলাওয়ে ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টির বিরোধীদের শক্তিশালী ঘাঁটি।

দেশটির প্রেসিডেন্ট এমারসন মুনানগাগুয়া জানিয়েছেন, ‘জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও “ক্রমবর্ধমান” অবৈধ বাণিজ্যের কারণে সৃষ্ট ঘাটতি মোকাবিলায় জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ প্রতিবাদ চলাকালে কয়েকজনের নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও কতজন নিহত হয়েছে তা প্রকাশ করেননি দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী ওয়েন কুবে। সহিংসতার জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাদের ও রাজনৈতিক অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে দরিদ্রদের প্রতি সরকারের কোনো সহানুভূতি নেই বলে অভিযোগ করেছে দেশটির প্রধান শ্রমিক সংগঠন জিম্বাবুয়ে কংগ্রেস অব ট্রেড ইউনিয়ন্স (জেডসিটিইউ)। বিক্ষোভকারীদের দাবি, জনগণের সমস্যা সমাধানে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। চলমান মুদ্রাস্ফীতি রোধেও নেই কোনো স্থায়ী পরিকল্পনা। এমন অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা সরকারের পতনের ডাক দিয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত