জেলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের মুখে পড়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোন, প্রস্তাবিত হাইটেক পার্কসহ চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি। এ ছাড়া দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার কানুদী-ফরাজীকান্দি থেকে ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদী থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগ আছে, স্থানীয় প্রশাসনকে হাত করে বালু উত্তোলন করে চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ নিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। গত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদল; কিংবা এমপি-মন্ত্রী বদল হলেও বন্ধ হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন। নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় বিগত সময়ে মতলবে ইউপি চেয়ারম্যান আজহার উদ্দিনকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। বালু উত্তোলনকারীদের ধরতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য। সেই সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে দুজনের। এত রক্তপাতের পরেও বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মতলব উত্তর উপজেলার কাজী মিজানুর রহমান মিজান, মতিন কাজী, মোক্তার গাজী ও শামীম বেপারী ও তাদের সহযোগীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেটের হোতা। এদের তত্ত্বাবধানে ক্ষমতাধর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হাত করে চলছে অবৈধ এই বালু-কারবার।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় ২৪ ঘণ্টাই ৩০-৩৫টি খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর তা শত শত বাল্কহেড, কার্গো ও ট্রলার দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় বৃহত্তর মতলববাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ, তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে আসছে। গত এক বছরে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
চাঁদপুর নদীবন্দরের কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকেও নির্দেশনা এসেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অতিদ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
