যুক্তরাষ্ট্রের নয় বছরের এক বিষ্ময় বালক নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ বয়সেই কলেজের কোর্স নিয়ে সবাইকে রীতিমত হতবাক করে দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার এ শিশু। অসম্ভব মেধাবী এ বালকের আইকিউ ৯৯.৯ শতাংশ বলে জানা গেছে।
ডেইলি মেইল জানায়, মধ্য ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলের শহর পেলেস্যান্টনের কারিয়ান কাজি নামে এ শিশু স্কুলের ফোর গ্রেডে ওঠার পর তার প্রতিভা দেখে স্কুল প্রধান তাকে কলেজে পাঠিয়ে দেন।
কারিয়ান এখন স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি লাস পোসিটাস কলেজ থেকে রসায়ন ও গণিত বিষয়ে আলাদা ডিগ্রি নিচ্ছে।
কারিয়ান জানায়, তিন বছর বয়সে প্রি-স্কুলে থাকাকালীন সে নিজেই নিজের প্রতিভা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিল। সে সময় সে তার শিক্ষকের ভুল ধরিয়ে দিয়েছিল।
হাফিংটন পোস্টে নিজ সম্পর্কে একটি কলাম লিখে কারিয়ান। সেখানে এ প্রতিভাবান শিশু জানায়, থার্ড গ্রেডে থাকতে মধ্যাকর্ষণ সম্পর্কে তার শিক্ষকের ভুল ধরিয়ে দিয়েছিল। এ সম্পর্কে তার জ্ঞান কম সেটিও তাকে জানায় সে। এরপর ওই শিক্ষক তাকে দুষ্ট ছেলেদের তালিকায় ফেলে দিয়েছিল।
পরে স্কুল থেকে যখন তার আইকিউ পরীক্ষা করা হল, এর ফলাফল দেখে চিকিৎসক, পিতামাতা এবং শিক্ষকরা অবাক হয়ে যান। পরীক্ষায় দেখা গেছে তার আইকিউ ৯৯.৯ শতাংশ।
কারিয়ান বলে, ‘আইকিউ টেস্টে এ ফল দেখে সবাই এত বিষ্মিত হয়ে যান যে, আমাকে ঘিরে সবকিছুতে পরিবর্তন দেখতে লাগলাম। বড়রা আমার সঙ্গে ভাবগম্ভীর আলোচনা করতে লাগলো। আসলে আমি মনে করি, এ প্রতিভা নিয়েই আমি জন্মেছি, যা আইকিউ টেস্টে দেখা গেছে।’
ক্লাস শুরু করতে কলেজে গেলে সবাই তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। অনেকেই তার ছবি ও ভিডিও করা শুরু করে। বয়সের ব্যবধান থাকলেও একটা পর্যায়ে ঠিকই তারা বন্ধু হয়ে যায় কারিয়ানের।
সে বলে, ‘কলেজে চলতে ফিরতে কেউ যাতে আমাকে দেখে অবাক না হয় এ জন্য আমি আগেই প্রফেসরদেরকে মেইল করেছিলাম।’
তবে একসঙ্গে স্কুল ও কলেজে পড়তে গিয়ে কিছু সমস্যার কথাও জানায় সে। বিশেষ করে দুই দিকের পড়াশোনায় সময় ভাগ করতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। এক্ষেত্রে তার মা তাকে সাহায্য করেন বলে জানায় সে। ক্লাসের নোট তৈরি করে দেন তিনি।
কলেজেও অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে কারিয়ান। এক ঘণ্টার মধ্যে রসায়নের ১৪ অধ্যায় শেষ করে ফেলেছে সে। এমনকী ১০১ শতাংশ নাম্বার তুলেছে এ বিষ্ময় বালক।
একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে সে হ্যারি পটার, গেমস অব থ্রোন এবং ডায়েরি অব অ্যা উইমপি কিড পড়ে সময় কাটায় সে। এমনকী বাবা মার কাছ থেকে বাংলা ও মান্দারিন ভাষাও শিখছে।
কারিয়ান বলে, ‘বাবা মা, আত্মীয় স্বজন, পরিবারের বন্ধুরা, শিক্ষক, চিকিৎসকদের বড় ধরণের সহায়তা পেয়ে আসছি। তারাও আমার পাশে থাকতে পেরে খুশি। তবে সমাজে অনেক শিশুর বেড়ে উঠতে রীতিমত কঠোর সংগ্রাম করতে হয়, সেদিক দিয়ে আমি সৌভাগ্যবান।’
