একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিজয়ীদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অবশ্য তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে শপথ গ্রহণ করবে কিনা এমন তথ্য আমার কাছে নেই। তবে এখনো বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ আছে। যে কোনো বিষয়ে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।’
প্রসঙ্গত, সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ থেকে আর মোকাব্বির খান সিলেট-২ থেকে বিজয়ী হন। তারা শপথ নেবেন বলে রোববার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী আহমেদ বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন প্রত্যেক প্রার্থী। দলীয়ভাবে এটা করা হবে না। প্রত্যেকে তার ইচ্ছামতো সময়ে মামলা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখত বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু ২৯ ডিসেম্বর রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়েছে। সুতরাং নির্বাচনোত্তর সরকার নিজেকে যে নামেই অভিহিত করুক, সেটি অবৈধ সরকার। এই সরকার রাতের আঁধারের ভোটের সরকার।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, মানুষ আশা-ভরসা-উৎসাহ ও এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। অন্ধকার শ্বাসরোধী পরিবেশে মানুষকে নির্বাক করে দেশ এখন একদলীয় দুঃশাসন প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত পর্বে এসে উপনীত হয়েছে।
তার অভিযোগ, এখানে এখন টু শব্দ করা যাবে না। ভিন্নমত প্রকাশিত হলে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশি আক্রমণের মুখে পড়তে হবে। মানুষকে রুদ্ধশ্বাসে একদল ও এক ব্যক্তির বন্দনা করতে হবে, নইলে কারাবাস বা ভয়াবহ শাস্তি ভোগ করতে হবে।
এসময় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দেশব্যাপী গ্রেপ্তার হাজার হাজার নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
