বাংলা চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘর এফডিসি দেখতে ভিড় জমান সিনেমাপ্রেমীরা। কেউ কেউ আবার নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ খুঁজতে ঢুঁ মারেন সিনেমার এই তীর্থস্থানে। এমনই ২৫ জানুয়ারি এমনই একজনের দেখা মিলল এফডিসিতে। বিশাল এক জটলার ভেতর বসে গান গাইছিলেন শাবনূর রিয়াজ অভিনীত প্রেমের তাজমহল ছবির গান ‘এই বুকে বইছে যমুনা, তুমি প্রেমের অথই জল’। পুরুষ হলেও তিনি গাইছিলেন নারী কণ্ঠে। একটা গান শেষ হতেই আরেকটা গানের অনুরোধ আসছিল তার কাছে। তিনিও গাইছিলেন আপন মনে।
ঠিক সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে ঝিঁঝি পোকার মতো নিজের আলো বিলিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। তার নাম মিজানুর রহমান মিজান। গ্রামের বাড়ি যশোর হলেও বসবাস করেন কুমিল্লায়। সেখানকার হোমনা থানার গৌরীপুর এলাকায় অবস্থিত মাতৃছায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা করেন।
দেশ রূপান্তরকে মিজান বলেন, ‘আমি শাবনূর ও রিয়াজের বিশাল ভক্ত। তাদের প্রতিটি ছবিই আমি দেখি। তাদের প্রায় সব ছবির গানই আমার মুখস্থ।’
শুধু তাই নয়, বাংলা সিনেমার প্রায় ৫ হাজার গান তার মুখস্থ বলে জানালেন মিজান। তিনি গান গাইলে দূর থেকে শুনলে প্রথমেই আপনার বিভ্রম হবে কোনো রেকর্ডে এন্ড্রু কিশোর বা খালিদ হাসান মিলুর গান বাজছে কিনা!
তবে মিজানের বেশি প্রিয় শাবনূর অভিনীত সিনেমার গান। তার ভেতর আবার সাবিনা ইয়াসমিন, কনক চাঁপা, ডলি সায়ন্তনীসহ অনেকের কণ্ঠই প্রায় হুবহু নকল করে গান গাইতে পারেন মিজান।
দেশ রূপান্তরকে মিজান বলেন, ‘আমি শাবনূর আর রিয়াজের অনেক বড় ভক্ত। ছোটবেলা থেকেই তাদের ছবি দেখে বড় হয়েছি। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫৮টি সিনেমার সব গান আমি মুখস্থ করেছি।’
তবে মিজানের ভালো লাগে ডলি সায়ন্তনীর মতো করে গান গাইতে। ডলির কণ্ঠটা তিনি একটু বেশি ম্যাচ করতে পারেন বলেও জানালেন।
মিজানের লক্ষ্য তিনি একদিন বড় গায়ক হবেন। তার গানে নাচবেন নায়িকারা। এমনকি একদিন শাবনূরের সঙ্গে দেখা করে তাকেও শোনাতে চান গান।
