জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ১৭৭ পৃষ্ঠার এ রায় গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে অর্থনৈতিক অপরাধসহ দুর্নীতিকে দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল খারিজ করে তাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৫ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর কারাদ- দেয়। পাশাপাশি অন্য দুই আসামির আপিল খারিজ করে ১০ বছরের কারাদ- বহাল রাখে আদালত। গতকাল প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার এতিমের কল্যাণে কাজ করার দায়িত্ব ছিল। সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া ট্রাস্ট খুলে আত্মীয়স্বজন ও দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে এতিমের তহবিল পরিচালনা করা হয়েছে। আদালত বলেছে, খালেদা জিয়া এই মামলায় মূল অপরাধী। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া যুক্তিযুক্ত। কারণ সর্বোচ্চ পদে আসীন থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার ক্ষেত্রে যাতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, নি¤œ আদালত খালেদা জিয়াকে সাজা কম দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে বয়স্ক, অসুস্থ ও তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করার যুক্তি দেখিয়েছে। কিন্তু মূল আসামিকে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে নি¤œ আদালতের এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত বলে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে তার ব্যাপারে অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অর্থনৈতিক অপরাধসহ দুর্নীতি আমাদের দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ধারণার ক্ষেত্রে শুধু বিপজ্জনক অবস্থায়ই পৌঁছায়নি, বরং এটি আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও হুমকিস্বরূপ।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, এখানে পদ বড় নয়, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ জড়িত। ভবিষ্যতে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পেলে তা পর্যালোচনা করে আপিল করা হবে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায় দেন। ওই রায়ের পর হাইকোর্টে আপিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রিভিশন আবেদন করে। হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার সাজা কেন বাড়ানো হবে নাÑ এ মর্মে রুল জারি করেছিল। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। ফলে তারা উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাননি।
