রাজিয়া সুলতানা রুমকি। পিকআপ চালক বাবা এবং গৃহিণী মায়ের একমাত্র কন্যা। জন্ম থেকে তার দুই পা অকেজো। হাঁটতে পারেন না। কিন্তু তাতে তার স্বপ্ন দেখা থামেনি, থামেনি পথচলা।
চলতে চলতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত চলে এসেছেন রুমকি। তিনি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। মায়ের কোলে চড়ে উচ্চশিক্ষার জীবনও শুরু হলো তার।
রুমকি রাজশাহী নগরীর বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ছোটবেলা থেকে তার চলাফেরা হুইল চেয়ারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিভাগের ক্লাসরুম শহীদুল্লাহ কলা ভবনের তৃতীয় তলায়। রুমকির মা একা সিঁড়ি বেয়ে তাকে তিন তলায় পর্যন্ত উঠে ক্লাসরুমে দিয়ে আসেন।
২১ জানুয়ারি প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হলেও রুমকি ক্লাস করেছেন একদিন। তার মায়ের পক্ষে তিনতলা বেয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না বলে ক্ষারে উপস্থিত হতে পারছেন না রুমকি।
তাই বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের শরণাপন্ন হন তিনি। ভবনের নিচতলায় ক্লাস হয় এমন একটি বিভাগে স্থানান্তরের আবেদন জানান। উপ-উপাচার্য বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করবেন বলে মা নাজনীন বেগমকে আশ্বস্ত করেন।
পরে রুমকি মায়ের কোলে চড়ে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য উপাচার্য বরাবর, কলা অনুষদের ডিন ও আরবি বিভাগের সভাপতির মাধ্যমে দরখাস্ত দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আরবি দুটি বিভাগেরই ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় শহীদুল্লাহ কলাভবনের তিনতলায়। নিচতলায় বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের ক্লাস হয়। নাজনীন বেগম বলেন, ‘স্যারদের কাছে বিভাগ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছি। যদি বাংলায় পড়ার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে রুমকি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘যেদিন স্কুলে যাওয়া শুরু করে সেদিন থেকেই ওকে (রুমকি) কোলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া শুরু করি। এখন আমার বয়সও বেড়েছে। মেয়েকে কোলে নিয়ে তিনতলায় উঠতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছি।’
রুমকি বলেন, ‘আমার জন্য প্রতিদিন ক্লাস করা দুষ্কর। কিন্তু আরবিতে নিয়মিত ক্লাস না করলে পরীক্ষায় পাস করতে পারব না। যদি বিভাগ পরিবর্তন করে নিচতলায় বাংলা বিভাগে পড়ার সুযোগ হয় তাহলে আমার পাস করা সহজ হবে, কষ্টও কম হবে।
আরবি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘রুমকির বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। এ বিষয়ে আমি উপাচার্য বরাবর সুপারিশ করেছি।’
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক বলেন, ‘রুমকির বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা উপ-কমিটিকে বিভাগ পরিবর্তনের ব্যাপারে জানিয়েছিলাম। কিন্তু উপ-কমিটি বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে।’
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া বলেন, ‘বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়টি সহজ নয়। আপাতত রুমকি ওই বিভাগেই ক্লাস করুক। উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই ওর জন্য শিগগিরই একটি ব্যবস্থা করব।
