সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দর্শনার্থীদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণে জাবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০২ পিএম

ছুটির দিনগুলোতে অতিথি পাখি দেখতে বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এ সময় ক্যাম্পাসের সর্বত্র দেখা যায় দর্শনার্থীদের নিয়ে আসা ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। নির্দিষ্ট স্থানে পার্ক করার নির্দেশনা থাকলেও খুব কমসংখ্যক দর্শনার্থীই তা অনুসরণ করেন।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বানে দর্শনার্থীদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখা যায়- সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারে অবস্থান নিয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা।

সাপ্তাহিকসহ যে কোন ছুটির দিনে রাজধানীর সন্নিকটে গাছপালা ও জলাশয়ে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি হয়ে ওঠে যেন পর্যটন কেন্দ্র। শীতকালে অতিথি পাখি দর্শন আরও বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে আগতদের মধ্যে। ফলে এ সময় ক্যাম্পাসের সড়কগুলো ও বটতলার খাবারের দোকানগুলোর সামনে সৃষ্টি হয় মাত্রাতিরিক্ত মানুষ ও গাড়ির জটলা। এমনকি অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত লেকগুলোর পাশেও দর্শনার্থীরা নিয়ে যান ব্যক্তিগত গাড়ি, নিয়ম না মেনে বাজান হর্ন। এতে অতিথি পাখিরা যেমন উত্ত্যক্ত হয়, তেমনি ভোগান্তির শিকার হন শিক্ষার্থীরাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরের মতোই হিমশিম খায়।

ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাসের প্রধান দু’টি লেক থেকে বিদায় নিয়েছে শীতের শুরুতে আসা অতিথি পাখিরা। পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মনে করেন, এর জন্য গাড়ি ও মানুষের মাত্রাতিরিক্ত কোলাহলই দায়ী।

শুক্রবার সকাল থেকে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীরা দর্শনার্থীদের অনুরোধ করেন যেন ব্যক্তিগত গাড়িগুলো প্রধান ফটকের পাশেই পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে রেখে ক্যাম্পাসের ভেতরে যান।

ক্যাম্পাস ঘুরে এর ইতিবাচক ফলাফলও লক্ষ্য করা যায়। অন্য ছুটির দিনগুলোর মতো ক্যাম্পাসের সড়কগুলোতে গাড়ির জট ততটা দেখা যায়নি। বটতলা এলাকায় খাবারের দোকানগুলোর সামনেও জটলা ছিল সহনীয় মাত্রায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এ কর্মসূচিটা পালন করছি যাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক হন এবং দর্শনার্থীদের মধ্যেও একটা সচেতনতা তৈরি হয়। এতে আমরা ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কর্মসূচির প্রশংসা করে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, যদি শিক্ষার্থীরা এরকম কিছু পজিটিভ কাজ করে তাহলে সুবিধা হয়। গাড়ি নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কীভাবে কাজ করা যায় সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত