শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তারেককে ফেরাতে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা সরকারের

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৩ এএম

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যুক্তরাজ্যে পলাতক দন্ডিত আসামি তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে তোড়জোড় শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বছরের জুলাইয়ের মধ্যে তারেককে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্যে এ মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তিটি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ মাসে আলোচনা সম্পন্ন হলের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন হবে। চুক্তি সম্পন্ন হলে জুলাইয়ের মধ্যে তারেককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারেককে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য যা যা করার দরকার, আমরা সবই করছি। এ রকম দন্ডিত ব্যক্তির বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘শুধু তারেক জিয়া নয়। ১৫ আগস্টের যারা খুনি, তারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন। তাদের নিয়ে আসার জন্য আমরা বিভিন্ন সময়ে তৎপরতা চালিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সফল হতে পারিনি। এবার নিশ্চয়ই আমরা সফল হব। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসাটা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা বড় চ্যালেঞ্জ।’

একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একটি মামলায় সাত বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত বছরের জুন মাসে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে তারেককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান।

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান বলেছিলেন, তাকে দেশে নিয়ে গিয়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হবে। এ জন্য তিনি দেশে যেতে আগ্রহী নন। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার কার্যক্রম ও সে কার্যক্রমের তথ্যাদি ব্রিটিশ হোম ডিপার্টমেন্টের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু এই মামলায় তারেকের মৃত্যুদন্ড হয়নি, যাবজ্জীবন হয়েছে।

মামলার রায়ের পর সরকার আবার যুক্তরাজ্যের কাছে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন জানায়। গত ১৯ ডিসেম্বর এ ব্যাপারে একটি শুনানি শুরু হয়েছে। যে শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তারেকের আইনজীবী একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারেককে ফিরিয়ে আনা এবং এর পক্ষে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং তথ্যাদি এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে তুলে ধরেছে। এর মধ্যে সরকার মনে করে তারেক রহমান দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত এবং তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অর্থপাচার আইন অনুযায়ী আর্থিকভাবে অস্বচ্ছ এবং আর্থিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রাখেন না। তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদের যোগাযোগ রয়েছে। দেশটির আইন অনুযায়ী জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর নীতি। যারা জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত, যুক্তরাজ্যে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। তারেকের বিরুদ্ধে লন্ডন থেকে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, নাশকতার পরিকল্পনা এবং নানা রকম সহিংসতা ঘটানোর জন্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে এবং তার প্রমাণ সরকার যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে তুলে ধরেছে। এই প্রমাণের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে কেউ যদি দেশে সহিংসতা বা নাশকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে তার রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের অধিকার খর্ব হয়ে যায়। তারেক যেহেতু দুটি মামলায় দন্ডিত হয়েছেন। দুটি মামলার একটাতেও তার মৃত্যুদন্ড হয়নি। তার এই দন্ড কার্যকরের জন্য সর্বোচ্চ আদালতের বিচার এখনো বাকি আছে। কাজেই ন্যায়বিচারের স্বার্থেই তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফেরত দেওয়া উচিত বলে মনে করে মন্ত্রণালয়।

২০০৮ সালে তারেক রহমান কারাগার থেকে জামিন পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। ওই সময়ে তার সঙ্গে তার স্ত্রী ও দুই মেয়েও লন্ডনে যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত