মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শূন্যতা তৈরি হওয়ায় বিরোধী দলে এসেছি: জি এম কাদের

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:৫০ পিএম

সংসদে বিরোধী দল নিয়ে শূন্যতা সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের।

রবিবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা যেহেতু সংসদে সেভাবে আসতে পারেননি। যে কোনো কারণেই হোক। ফলে সংসদীয় গণতন্ত্রে জনগণের যে প্রত্যাশা। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান আসা। সেই জায়গায় একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। সেই কারণেই আমরা বিরোধী দলের ভূমিকায় এসেছি।’

জাতীয় পার্টি 'গৃহপালিত বিরোধী দল নয়' দাবি করে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিরোধী দলে এসেছি মানে এই নয় যে আমরা কোনো পাতানো খেলা খেলতে এসেছি। কিংবা আমাদের গৃহপালিত বিরোধী দল বলতে হবে। অন্যান্য বিরোধী দল যে কাজ করত বা জনগণ যা প্রত্যাশা করে তাই করব।

জি এম কাদের বলেন, আমরা সরকারের সহায়ক হিসেবে রাজনীতি করেছি। সহায়ক হিসেবেই আমরা সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকব। সরকারের দুর্নীতি তুলে ধরব। কয়জন আছি, কয়জন কথা বললাম সেটা বিষয় নয়। কতটা কথা বলতে পারলাম সেটা হলো বড় কথা। তার চেয়েও বড় কথা হলো সরকার কতটুকু মানলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে নির্বাচন নিয়ে সবসময় কিছু না কিছু হয়েছে। যে কোনো সরকারের সময়ই হয়েছে। তারপরও আমরা অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যেতে চাই।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে ইঙ্গিত করে সংসদের বিরোধী দলীয় এই উপনেতা বলেন, ‘আমাদের অনেকের অনেক ক্ষোভ, হতাশা থাকতে পারে। তাদের উদ্দেশে আমার কথা হলো, এ ধরনের সমস্যায় আমরা সবসময় কমবেশি পড়েছি। আমরা কেউ সুযোগ পেলে যে তার সদ্ব্যবহার করি না এ কথা অনেকে বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন না। এটাই হলো বাস্তবতা।’

আন্দোলন করে সরকার পতন সম্ভব নয় দাবি করে তিনি বলেন, সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব এনে সরকার পতন আমাদের দেশের সংবিধানে প্রায় অসম্ভব। আন্দোলন করে, বড় বড় কথা বলে, মারামারি করে, আগুন জ্বালিয়ে সরকার পতন করা যায় না। এটা ২০১৪ সালে পরিষ্কারভাবে বোঝা গেছে। শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব।

এ দিন জি এম কাদের খন্দকার দেলোয়ার জালালী রচিত ‘রক্তাক্ত রাখাইন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে বীভৎসতা চালানো হয়েছে। সারা পৃথিবীর বিবেকবান মানুষকে নাড়া দিয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যাকে সারা বিশ্বের সমস্যা দাবি করে তিনি বলেন, তাদের জায়গা দেওয়ায় সারা বিশ্ব প্রশংসা করেছে। এটা এখন আমাদের ঘাড়ে বড় বোঝা। এর সমাধানেও সারা বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফয়সাল চিশতী, অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত