সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মা অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাচ্চাকে খুন করে চাচা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:১৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনৈতিক প্রস্তাবে মা রাজি না হওয়ায় চাচার হাতে খুন হতে হয়েছে ৩ বছরের শিশু হালিমাকে। মরদেহ উদ্ধারের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে শিশু হালিমা হত্যা রহস্যের উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন।

এ ঘটনায় হালিমার চাচা হেলাল মিয়া (২৬) ও তার আরেক সহযোগী রুবেল মিয়াকে (২২) আটক করেছে পুলিশ। হেলাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাদুঘর গ্রামের মুন্সিহাঁটি মহল্লার ফরিদ মিয়ার ছেলে ও রুবেল একই গ্রামের ভূঁইয়াপাড়া মহল্লার আরফুজ মিয়ার ছেলে।

হেলাল ও রুবেলকে আসামি করে হালিমার মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আটক হেলাল ও রুবেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

হেলাল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, হালিমার মরদেহ উদ্ধারের পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ ঘটনার তদন্তকাজ শুরু করি। তদন্তের প্রধান বিষয় ছিল হালিমার মায়ের সঙ্গে কারও সম্পর্ক আছে কি না। সেটি তদন্ত করতে গিয়েই আমরা জানতে পারি হালিমার মাকে তার চাচা হেলাল মিয়া মাস খানেক আগে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের ঝগড়াও হয়েছে। এর পর থেকেই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে হেলাল।

হালিমার মরদেহ উদ্ধারের পরপরই হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের পর সে পুলিশকে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে হালিমাকে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে, কিন্তু পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। হত্যার বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে সে তার রাজমিস্ত্রি কাজের সহযোগী রুবেলকে সাথে নিয়ে ৪/৫ দিন আগে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার দিন গত ২ ফেব্রুয়ারি হালিমাকে কোলে করে হেলাল বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে হালিমাকে এক প্যাকেট চিপস্ কিনে দিয়ে বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি বহুতল ভবনের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে হালিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে হেলাল। আর রুবেল পাহারা দিয়েছিল। এ ঘটনায় রোববার রাতেই রুবেলকেও তার বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে গত শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভাদুঘর গ্রামের ভূঁইয়াপাড়া মহল্লার একটি বহুতল ভবনের পাশ থেকে হালিমার মরদেহ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা-পুলিশ। হালিমা ওই গ্রামের মুন্সিহাঁটি মহল্লার রাজমিস্ত্রি আমির হোসেনের মেয়ে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত