দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারের হাতিয়ার হয়ে বিরোধী শক্তিকে দমন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল করীর রিজভী। দুদক সরকারের প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের মেশিন হিসেবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব বলেন।
রিজভী বলেন, নির্দোষ জাহালম এতোদিন কারাগারে ছিল আওয়ামী সরকারের দুদকের অন্যায় সাজার কারণে। দুদক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে না। বরং সরকারের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করছে। জাহালমের দীর্ঘদিন কারাভোগের ঘটনায় দুদকের ভূমিকা নজিরবিহীনভাবে ন্যক্কারজনক। এই ঘটনায় দেশের ক্রিমিনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর ছবি ভেসে ওঠে।
তিনি বলেন, এ দুদকই সরকারের নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। তবে দুদক সরকারের অর্থ লোপাটকারি আর দুষ্কৃতকারীদের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারছে না। এক দেশে দুই নীতি দুদকের।
রিজভী বলেন, এই দুদক সরকারের ‘দশ বছরের মেগা দুর্নীতি’র কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনি। যদি করতেই পারত তবে যাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তারা আজকে প্রবল প্রতাপে দেশব্যাপী দাপিয়ে বেড়াতে পারত না। দেশের বাইরে বেগম পল্লি ও সেকেন্ড হোম গড়ে উঠত না। নিউইয়র্কে মন্ত্রী পুত্রের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থাকত না। সাবেক অর্থমন্ত্রী চার হাজার কোটি টাকা চুরিকে দুর্নীতি বলতে নারাজ হতেন না।
রিজভী বলেন, দুদকের কারণেই দেশের ক্রিমিনাল ইকোনমি ডালপালা পত্র পল্লব বিস্তার করে বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য নাজমুল হক নান্নু, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আব্দুস সালাম, সহ দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, মুনীর হোসেন প্রমুখ।
