শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কর্মস্থলে না থেকেও বেতন নিচ্ছেন ১১ চিকিৎসক

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২১ এএম

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আরিফুর রহমান ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে তিনদিনের ছুটি নিয়ে আর অফিসে আসেন না। শল্য বিশেষজ্ঞ আফরোজা ইসলাম ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে অনুপস্থিত। তবুও তাদের সরকারি চাকরিটি বহাল। তাছাড়া সপ্তাহ বা মাসে দুয়েকবার হাজিরা দিয়ে মাসের পর মাস পুরো বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তত ১১ জন চিকিৎসক।

এদিকে যোগদান করার কিছুদিন পরেই চিকিৎসকরা বদলি হয়ে চলে যান। ফলে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩৪ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৪ পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া চারজন চিকিৎসক প্রেষণে, দুজন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। তদবির ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ওইসব চিকিৎসক নিজেদের স্বার্থ হাসিল করলেও বেহাল গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা কার্যক্রম। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে তিনজনকে পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত কামরাগুলোর অধিকাংশই ছিল তালাবদ্ধ। কয়েকটি কামরা খোলা থাকলেও কর্মরত চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শত শত রোগী কাক্সিক্ষত চিকিৎসক না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফ্লোরা আফরোজ, তপন কুমার, আমেন খাতুন, নুসরাত জাহান, নিয়ামুল হাছান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মিজানুর রহমানসহ ১১ জন চিকিৎসক কর্মস্থলে অবস্থান না করে রাজধানী ঢাকায় থাকেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, ওইসব চিকিৎসক সপ্তাহে দুই-একদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে এসে চিকিৎসক না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেবাবঞ্চিত রোগী ও তাদের স্বজনরা। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার মুখী গ্রামের হেলাল উদ্দিন জানান, ডাক্তার না থাকায় প্রায়ই চিকিৎসা না পেয়ে রোগী নিয়ে ফিরে যেতে হয়। তিনি বলেন, সচ্ছলরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সেবা নিতে পারলেও তাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালই একমাত্র ভরসা। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলম আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। কিন্তু তারা কোনো জবাব না দেওয়ায় ওইসব চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত