শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘পরকীয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্য’: নারী পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৫৩ পিএম

বগুড়ার ধুনটে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন। রোজিনা আকতার (৩২) নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তা ধুনট থানায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রোজিনার বাবা নান্নু মিয়ার দাবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন রোজিনা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় তার মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এরপর গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেন এএসআই রোজিনা।

বুধবার দুপুরের দিকে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তা রোজিনার মৃতদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ধুনট থানা ভবনের পাশে একটি ভাড়ার বাসায় বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন রোজিনা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শজিমেকে ভর্তি করে। সেখানে রাতে মারা যান রোজিনা।

ধুনট থানা সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয় নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নান্নু মিয়ার মেয়ে রোজিনা আকতারের। ২০০৮ সালে একই এলাকার আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে হাসান আলীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে রোজিনার বিয়ে হয়। রোজিনার স্বামী হাসান আলী সিংড়া উপজেলার দমদমা কারিগরি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। রোজিনা-হাসানের দুটি ছেলে-মেয়ে রয়েছে। রোজিনা খাতুন কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ধুনট থানায় যোগদান করেন। এরপর ছেলে-মেয়ে ও তার মাকে নিয়ে তিনি থানার পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

তার বাবা নান্নু মিয়া জানান, রোজিনার স্বামী হাসান আলী চাকরির সুবাদে গ্রামের বাড়িতে থাকে। দু’জন চাকরির কারণে দুই এলাকায় থাকায় তাদের মাঝে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এরই মাঝে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার এক পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে রোজিনা। রোজিনার বাসায় থাকা তার মা বিষয়টি জানতে পারলে মা-মেয়ের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এরপর গত দুদিন রোজিনা ঠিকমতো খাচ্ছিল না। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ থানা থেকে বাসায় ফিরে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, দাম্পত্য কলহের কারণে ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুর-ধুনট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান জানান, রোজিনার আত্মহত্যার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করে দেখা হবে। বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবনে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত