রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঝুঁকিতে চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধ, ভাঙনের শঙ্কা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৯ পিএম

চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চলতি শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে আসন্ন বর্ষায় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে এই জেলা শহর। বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠালেও তা এখনো মেলেনি। ফলে যথাসময়ে শহররক্ষা বাঁধের কাজ শুরু ও শেষ করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলায় মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে শহররক্ষায় বাঁধের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৩৬০ মিটার। এর মধ্যে পুরানবাজার অংশে রয়েছে ১ হাজার ৬৩০ মিটার ও নতুনবাজারে অংশের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৭৩০ মিটার। গত বছর বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির ঘূর্ণিপাকে পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় বাঁধে ধস দেখা দিলে কিছু বালুভর্তি বস্তা এবং ব্লক ফেলে প্রাথমিকভাবে বাঁধ রক্ষা করা হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন না হলে বর্ষাকালে তা আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে। যার ফলে শহরে তীব্র ভাঙনের শঙ্কা করা হচ্ছে।

চাঁদপুর পুরানবাজার ও স্টেশনবাজার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শহররক্ষা বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছর বর্ষা মৌসুমে এই বাঁধের ক্ষতি হলেও তা সংস্কারের জন্য এখনো দৃশ্যত কোনো উদ্যোগ নেই। আসছে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন নিয়ে তারা উদ্বেগের কথা জানান। চাঁদপুর শহরকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে দ্রুত শহররক্ষা বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।

নদীভাঙন প্রতিরোধ কমিটির চাঁদপুর দক্ষিণাঞ্চল শাখার সভাপতি ফয়েজ আহমেদ বলেন, গত বর্ষা মৌসুমে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ বছর শুষ্ক মৌসুমে পরিকল্পিতভাবে বাঁধ মেরামত করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ভাঙনে নদীতে বিলীন হতে পারে শহরের অনেক বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় জেলায় ভাঙন রোধে ৩ হাজার ৩৬০ মিটার এলাকায় বাঁধের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে পুরানবাজার এলাকায় ৪৫০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত