সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মুজিবনগরে শিক্ষক শিক্ষার্থী পর্যটকদের ভিড়

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৮ এএম

মুজিবনগরে শীত মৌসুমে বেশি ভিড় হয় পর্যটকদের। এবার স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা সফর বা পিকনিকের জন্য বেছে নিয়েছে ঐতিহাসিক মুজিবনগরকে। সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভিড়ে মুখরিত মুজিবনগরের সুবিশাল চত্বর। মুজিবনগরে স্থাপিত স্বাধীনতার বিভিন্ন ভাস্কর্য ও স্মৃতিচিত্র ঘুরে দেখছে তারা। অনেকে বইয়ে লেখা ইতিহাসের সঙ্গে মুজিবনগরের পুরো চিত্রকে মিলিয়ে নিচ্ছে।

এখানেই নির্মিত হয়েছে দেশের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি মানচিত্র। মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে ভাগ করে ভাস্কর্যের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি, শরণার্থীগমন, পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ ও পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন এবং ধ্বংস চিত্র। ভাস্কর্যশিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ, পরাজিত পাকিস্তানি শোষকদের আত্মসমর্পণের চুক্তি, দেশের প্রথম সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণসহ স্বাধীনতা যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য চিত্র। ১৯৭১-এর ১৭ এপ্রিল এখানে প্রথম সরকারের গার্ড অনার, সরকার গঠন, তাদের শপথ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ হয়েছিল। সেদিন মুজিবনগরকে দেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়। এই মুজিবনগর সরকারই দেশের ৯ মাসের স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনা করে।  

টাঙ্গাইল করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ ও অর্জন দেখতে হলে মুজিবনগর আসতে হবে। একই কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া পারভীন বলেন, ‘মুজিবনগর না এলে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে থাকত।’ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, মুজিবনগর জীবন্ত মুক্তিযুদ্ধ। এখানে এলে দেশপ্রেমের অনুভূতি বেড়ে যায়।  

মুজিবনগর পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন জানান, স্বল্প জনবল নিয়ে এত পর্যটক সামলাতে গিয়ে তারা প্রতিদিনই হিমশিম খাচ্ছেন। মুজিবনগর বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা দিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্দেশ দেওয়া আছে। মুজিবনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আনন্দ দিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক আতাউল গনি জানান, মুজিবনগকে আরও তথ্যবহুল ও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তুলতে সরকার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত