বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তিন স্তরের নিরাপত্তায় কারাগারে যেমন আছেন খালেদা জিয়া

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:২৭ পিএম

ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বন্দী আছেন আজ এক বছর। সেখানে তাকে রাখা হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। বেশির ভাগ সময় থাকেন চুপচাপ, হয়ত কথা বলেন নারী কারারক্ষীদের সঙ্গে।

জানা গেছে, কারাবন্দী খালেদা জিয়া নামাজ আদায়, পত্রিকা পড়ে ও টিভি দেখে সময় কাটান। সময় পেলে নারী কারারক্ষীদের সঙ্গে গল্প করেন। তবে বেশিরভাগ সময় চুপচাপ থাকেন তিনি। রাতে আগেভাগে ঘুমিয়ে পড়লেও সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কারা কর্মকর্তা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার।

সেদিনই তাকে নেওয়া হয় পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। মাঝে প্রায় এক মাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আবার নেওয়া হয় ওই কারাগারে।

সম্প্রতি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসা স্বজনরা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, কারাগারে ভালো নেই ৭৪ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসা হচ্ছে না। নিয়মিত থেরাপি দেওয়ার কথা থাকলেও তাও দেওয়া হচ্ছে না। তার পায়ের ব্যথা বেড়েছে। এ জন্য হুইল চেয়ারে করে চলতে হয়।

ওই কারা কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, খালেদা জিয়াকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার কক্ষ ঘিরে একজন নারী উপ-কারাধ্যক্ষের নেতৃত্বে চার নারী কারারক্ষী থাকেন। কারাগারের বাইরে থাকেন একজন উপ-কারাধ্যক্ষের নেতৃত্বে একদল কারারক্ষী। এরপর থাকেন পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার সেবায় কারাগারের ভেতরে সার্বক্ষণিক একজন নারী ফার্মাসিস্ট, প্রয়োজন হলে একজন চিকিৎসক থাকেন। খালেদার তত্ত্বাবধানে কারারক্ষীদের পাশাপাশি তার গৃহকর্মী ফাতেমাও রয়েছেন। ফাতেমা কর্তব্যরত নারী কারারক্ষীদের কাছেই থাকেন। ডাকা হলে তিনি খালেদা জিয়াকে ওষুধ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। রাতে ঘুমান খালেদা জিয়ার পাশের কক্ষে।

তারা জানান, খালেদা জিয়া ঘুম থেকে একটু দেরি করে ওঠেন। উঠেই নামাজ আদায় করেন। সকালের নাশতায় রুটি ও সবজি খান। এরপর পত্রিকা পড়েন। পরে গোসল সেরে জোহরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে ওজিফা পড়েন। প্রথমদিকে তিনি ডে-কেয়ার সেন্টারের বারান্দায় পায়চারি করলেও পায়ের ব্যথার কারণে এখন আর করেন না। তবে গৃহকর্মী ফাতেমা তাকে হুইল চেয়ারে করে বারান্দায় নিয়ে যান।

ওই কারা কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিনই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তার খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হয়। বাইরের কোনো খাবার দেওয়া হয় না। প্রতিদিন রান্নার আগে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়। চাহিদা অনুযায়ী রান্না করা হয়। রান্নার পর কয়েক দফা পরীক্ষার পর তাকে খেতে দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বজনদের উদ্ধৃত করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। নিয়মিত থেরাপি না দিয়ে মাঝেমধ্যে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে। তখন প্রায় এক মাস তাকে হাসপাতালে রাখা হয়। তবে চিকিৎসা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ৭ এপ্রিল একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ব্রি. জে. মো. আব্দুল্লাহ-আল-হারুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতাল থেকে থেরাপি দেওয়ার জন্য নিয়মিত থেরাপিস্ট পাঠানো হচ্ছে। কারা কর্তৃপক্ষ চাইলে ডাক্তারও পাঠানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত