মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হাওরে দুর্নীতির দায়ে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকে

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৭ এএম

সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগপত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের ঠিকাদারদের আসামি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার কমিশনের সভায় অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শিগগিরই বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালের ২ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ। মামলায় আসামি করা হয় ৬১ জনকে। একই কর্মকর্তা তদন্ত শেষে এজাহারভুক্ত ৩৪ জনকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন ছয়জনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। মোট ৩৩ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেয় কমিশন। আসামিরা দেওয়ানি অপরাধের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ১৯ জন ঠিকাদার ও পাউবোর ১৪ কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে প্রতিবছর বন্যা আসার সময় ও আশঙ্কা সম্বন্ধে অবহিত থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। তাদের অর্থ আত্মসাৎ ও অবহেলার কারণেই হাওর অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় কৃষক ও জনসাধারণের আর্থিক ক্ষতি হয়।

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ২৭ জন অভিযোগপত্রে আসামি হচ্ছেন। তারা হলেন সুনামগঞ্জে পাউবোর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দীন, সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, সাবেক সেকশন কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লাহ, ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ খান, খন্দকার আলী রেজা, মো. শাহ আলম, মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম, মো. মোছাদ্দেক ও সজিব পাল।

ঠকাদারদের মধ্যে গুডম্যান এন্টারপ্রাইজের আফজালুর রহমান, এলএন কনস্ট্রাকশনের পার্থ সারথী পুরকায়স্থ, শেখ মো. মিজানুর রহমান,

মাহবুব এন্টারপ্রাইজের আবুল মহসীন মাহবুব, নিয়াজ ট্রেডার্সের নিয়াজ আহমেদ খান, প্রীতি এন্টারপ্রাইজের মিলন কান্তি দে, আরআর ট্রেডিংয়ের খান মো. ওয়াহিদ রনি, সোয়েব এন্টারপ্রাইজের সোয়েব আহমেদ, ইউনুস অ্যান্ড

ব্রাদার্সের মো. ইউনুস, মো. আবদুল কাইয়ুম, আতিকুর রহমান,

গোলাম সরোয়ার, নুরুল হক, শাহরিন হক মালিক, মোকসুদ আহমেদ, নুনা ট্রেডার্সের সাইদুল হক, এসআই প্রাইভেট লিমিটেডের কাজী হাসিনা আফরোজ ও শেখ আশরাফউদ্দিন।

তদন্তে আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী লিংকন সরকার, রঞ্জন কুমার দাস ও অনিক সাহা, সাবেক সেকশন কর্মকর্তা ইমরান হোসেন, নিহার রঞ্জন দাস এবং ঠিকাদার ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের মো. শরিফুল ইসলাম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত