সাম্প্রতিক অন্যান্য অনেক পরিবর্তনের মতো ভালোবাসা দিবস পালনেও কড়াকড়ি শিথিল করেছে সৌদি আরব। পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণে দিবসটি পালনে সৌদি নাগরিকদের আগের মতো বাধা দেয় না দেশটির শরিয়া পুলিশ।
দেশটির সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানায়, ভালোবাসা দিবসে এখন উন্মুক্তভাবে ফুল বিক্রি হয়। দুই বছর আগের মতো এখন দোকানিরা লুকিয়ে ফুল বিক্রি করে না। হার্ট আকৃতির কেকও দোকানিরা লুকিয়ে রাখে না কাউন্টারের নিচে।
২০১৮ সালে ইসলামি শরিয়া অনুশাসনের দেশটিতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ভালোবাসা দিবস উদ্যাপিত হয়। ধর্মীয় বিধিনিষেধ পালনে নজরদারিতে নিয়োজিত শরিয়া পুলিশ বাধা দেয়নি এতে।
মক্কা শহরের নৈতিকতা প্রচার এবং অনৈতিকতা প্রতিরোধ বিষয়ক কমিশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ আহমেদ কাসিম আল-গামদি এক টিভি চ্যানেলে বলেন, “ভালোবাসা দিবস উদ্যাপন ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। ভালোবাসাকে উদ্যাপন করা শুধু অমুসলিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না।”
তিনি বলেন, “ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই মা দিবসের মতো পুরো বিশ্বের মানুষ এ দিবসটি পালন করে থাকে।”

ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে কড়াকড়ি শিথিল হওয়ায় দেশটির ব্যবসার পসার ঘটেছে। বিশেষ করে ফুলের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, কসমেটিকস এবং বিউটি পার্লারগুলোকে ঘিরে ভোক্তাদের চাহিদা বেড়ে গেছে।
আবদুল আজিজ আল নোমান নামে এক চকলেট ব্যবসায়ী জুয়েলারি সহ কয়েকটি ব্রান্ড প্রতিষ্ঠানের কাস্টমারদের চকলেট বাক্স এবং ফুল উপহার দিচ্ছেন। এ দিনকে ঘিরে জুয়েলারি ব্রান্ডগুলো বেশ চাঙা হয়ে উঠেছে। নাডাইন জুয়েলারি এবং ফিতাইহি নামে ব্রান্ডগুলো ভালোবাসা দিবসের বিভিন্ন শুভবার্তা লেখে জুয়েলারি পণ্য ও বিশেষ ব্রেসলেট বাজারে ছেড়েছে।
এসব পণ্যে পবিত্র কোরআনের আয়াত ছাড়াও কাহলিল জিবরান ও আল মুতানাবির মতো বিখ্যাত আরব কবিদের কবিতার লাইন খচিত করা হয়েছে।
