ময়মনসিংহে এককালের খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদ এখন যেন মরা খাল। দুই কূল ছাপিয়ে জলের উচ্ছ্বাস আর নেই। উজানের পলি ও বালি জমে হারিয়েছে গভীরতা। নদের এই দুরবস্থার মধ্যেও থেমে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন। অবৈধ স্থাপনার কারণে ব্যাপক দূষণের শিকার দুই তীরের পরিবেশ। এমন অবস্থায় নদের হারানো রূপ ফেরাতে শুরু হচ্ছে খনন। পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের ২২৭ কিলোমিটার নৌপথে আগামী মার্চেই কাজ শুরু হওয়ার কথা।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম দেশরূপান্তরকে বলেন, ‘যমুনা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি কমে যাওয়ায় ব্রহ্মপুত্রের এই অবস্থা হয়েছে। কারণ ব্রহ্মপুত্রের মূল মুখটি যমুনার সংযোগস্থলে।’ তিনি বলেন, ‘আশার কথা যে, বিলম্ব হলেও সরকার ব্রহ্মপুত্রের নাব্য ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পের আওতায় খনন শুরু হবে আগামী মার্চে। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজে পাশাপাশি দুটি জাহাজ চলাচলের জন্য নদ ৩০০ থেকে ৩৫০ ফুট প্রশস্ত করা হবে। এতে শুকনো মৌসুমে কমপক্ষে ১০ ফুট গভীর পানি থাকবে। বিআইডব্লিউটিএ ছয় বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
এদিকে খননের আগে নদের দুই পাড়ের বিপুল জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. নূরুল আমিন কালাম। তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে খনন ও খনন করা বালুর সুষ্ঠু সংরক্ষণ এবং সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পিত ব্যবস্থা নিতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট জেলা সভাপতি এহতেশামুল আলম বলেন, ‘ভারতের গঙ্গা ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মতো ব্রহ্মপুত্রের দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ জরুরি।’
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে দ্রুত ড্রেজিং করতে হবে। যমুনার সঙ্গে সংযুক্ত এর মুখটিরও ড্রেজিং জরুরি। এটা ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।’
নদী বাঁচাও আন্দোলন জেলা সভাপতি এলাহি সাজ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী খুব দ্রুত ব্রহ্মপুত্রের খনন সম্পন্ন হবে।’
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ অংশে ব্রহ্মপুত্রের অবস্থান পিয়ারপুর রেলস্টেশনের পূর্বে অষ্টধার থেকে শুরু করে গফরগাঁও উপজেলার হোসেনপুর টৌক পর্যন্ত। এখানে নদের গড় প্রস্থ ৫০০ মিটার ও দৈর্ঘ্য প্রায় ২২৯ কিলোমিটার।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীর নাব্য স্বাভাবিক হয়ে আবারও কার্গো ও জাহাজ চলাল করতে পারবে। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে লোকালয় বা বাজারে গড়ে উঠবে চৌদ্দটি ঘাট। এর আওতায় নদের ৮ কোটি ঘন মিটার অংশে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে। খননের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবে এই সংস্থা। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র খনন করা হলে যমুনা থেকে পানির সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে বালি আসবে। এ কারণে নৌপথটি সারা বছর সংরক্ষণের আওতায় রাখতে হবে। তাই ময়মনসিংহে একটি ড্রেজিং অফিস চালু করা হবে।
