রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:১৭ এএম

একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য দেশের মানুষের কাছে ‘ক্ষমা না চাওয়ার’ কারণ দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগের বিষয়ে কৌশলী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ক্ষমতাসীন দল। ‘বিবেকের তাড়না’ থেকে রাজ্জাকের পদত্যাগকে সাধুবাদ জানালেও বিষয়টিতে কোনো ‘রাজনৈতিক কৌশল’ থাকতে পারে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগে খুশি হওয়ার কিছু নেই। খুশি হব তখনই, যখন তিনি জাতির কাছে কৃতকর্মের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন। তার পদত্যাগ অন্য কোনো চক্রান্তও হতে পারে।’ সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘রাজ্জাকের পদত্যাগের বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ হতে পারে। তার কাজকর্ম পর্যবেক্ষণে রেখে উদ্দেশ্য বুঝতে হবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তার পদত্যাগ নিয়ে পুলকিত, আশান্বিত বা হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তার অস্থিমজ্জায় জামায়াতের রাজনীতি। এটা তার রাজনৈতিক অপকৌশল হতে পারে। তাকে এখন আরও কড়া পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।’

তবে বিবেকের তাড়নায় তিনি পদত্যাগ করে থাকলে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘জামায়াত এরই মধ্যে যুদ্ধাপরাধীর দল হিসেবে প্রমাণিত। বহু আগে ক্ষমা চেয়ে জামায়াতের রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া উচিত ছিল ব্যারিস্টার রাজ্জাকের।’

এদিকে শুক্রবার রাজ্জাকের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পরপরই ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াত ক্ষমা চেয়ে নতুনভাবে রাজনীতিতে এলে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বাগত জানাবে কি জানাবে না সেটা তো এখানে কোনো বিষয় নয়। তারা অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে কি না? তারা ক্ষমাপ্রার্থী কি না? তারা ক্ষমাটা আগে চাক। তারপর বলব। তারা ক্ষমা চাওয়ার পরেই এ ব্যাপারে আমাদের মূল্যায়নটা, আমাদের বিশ্লেষণ নিয়ে, আমাদের রিঅ্যাকশনটা আমরা প্রকাশ করতে পারি।’

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের দল জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন। গোলাম আযমসহ দলটির শীর্ষনেতাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘ক্রিমিনাল দল’ জামায়াত একাত্তরে তাদের ভূমিকার জন্য কখনো ক্ষমা চায়নি।

আর আদালতে মামলা থাকার কারণে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীকে সরকার নিষিদ্ধ করতে পারছে না উল্লেখ করে ফেব্রুয়ারির শুরুতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেন, নিবন্ধনের মতো আদালতের রায়েই জামায়াত নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত