ময়মনসিংহে বালু ফেলে সরকারি খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বলছেন, সদর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক ও তার ভাই মোশারফ হোসেন সদর থানার চরঈশ্বরদিয়া মৌজার সাহেবখালি খালের প্রায় পাঁচ শতাংশ জায়গা খুঁটি ও তারের বেড়া দিয়ে ঘেরার পর ভরাটের কাজ শুরু করেছেন। খালটি এভাবে ভরাট হলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে এর উজানের সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার একর জমি স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে। এছাড়া আগামী বর্ষায় লাখের বেশি মানুষের পানিবন্দি হয়ে পড়ারও শঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী খাল ভরাট বন্ধের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং জেলা আওয়ামী লীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকও ভরাটের কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন ফজলুল হক ও তার ভাইকে। তবে কারও নিষেধই শুনছেন না তারা। ফজলুল হক ও তার ভাইয়ের দাবি, নিজ মালিকানার জমিতেই মাটি ফেলছেন তারা।
স্থানীয় চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হেকিম ম-ল এবং চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াদুদসহ বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ফজলুল হকের ভাই মোশারফ হোসেন কিছুদিন আগে চরঈশ্বরদিয়া মৌজার সাহেবখালি খাল লাগোয়া একটি দাগের সাড়ে ২২ শতাংশ জমি কেনেন। কিন্তু জমিটির বিক্রেতা দলিলমূলে প্রকৃতপক্ষে সাড়ে ১৭ শতাংশের মালিক ছিলেন। জমি কেনার পর ফজলুল হক ও তার ভাই ২০ ফুট প্রশস্ত খালের প্রায় পাঁচ শতাংশ জায়গাসহ পুরো জমিটি সিমেন্টের খুঁটি পুঁতে ও তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন। পরে তারা বালি ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করলে প্রথমে বাধা দেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে স্থানীয় ভূমি কার্যালয় ও পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও খাল ভরাটে নিষেধ করেন মোশারফকে। কিন্তু সব বাধা অমান্য করেই খালটির মাঝখানে ভরাটের কাজ চলছে।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হেকিম ম-ল বলেন, খালটি ভরাট হয়ে গেলে আগামী বর্ষায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে।
ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মোশারফকে খালে মাটি ফেলা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খাল বা প্রবহমান কোনো জলপ্রবাহ বন্ধ হয় এমন যেকোনো কাজের ওপর হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। সাহেবখালি খাল ভরাটের বিষয়টি জানামাত্র আমি তা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এখনো যদি ভরাটের কাজ বন্ধ না করে থাকে তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফজলুল হক ও তার ভাই মোশারফকে খাল ভরাট করতে নিষেধ করা হয়েছে।
এদিকে খাল ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে দখলকারী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের নিজ মালিকানার জমিতেই মাটি ফেলা হচ্ছে। খালের অংশও আমাদের মালিকানাধীন জমির মধ্যেই পড়েছে।’
