স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদী ফারহানা খানম আশাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডও দিয়েছেন আদালত।
রবিবার দুপুরে নড়াইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ শেখ আব্দুল আহাদ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ৯ আগস্ট জেলার কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের সুজন মোল্লার স্ত্রী ফারহানা খানম আশা তার স্বামী, শ্বশুর চাঁন মোল্লা ও শাশুড়ি হানোয়ারা বেগমের নামে আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আশার স্বামী সুজন ও শ্বশুর চান মোল্লা বেশ কিছুদিন জেল হাজতে কাটান। মামলাটি আদালতে চলাকালে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আসামিরা দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট আসামিদের খালাস দেন বিজ্ঞ বিচারক।
মিথ্যা মামলা থেকে খালাস প্রাপ্ত চান মোল্লা বাদী হয়ে নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ফারহানা খানম আশার নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফারহানা খানম আশাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত ফারহানা খানম আশাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আশা নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের স.ম. আল ফয়সালের মেয়ে।
মামলাটিতে বাদীপক্ষে ছিলেন পিপি এমদাদুল ইসলাম। আসামিপক্ষের অ্যাডভোকেট কাজী আবুল কালাম বলেন, ‘মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’
