যুদ্ধ মানে কেউ জানে না তা কোথায় গিয়ে থামবে: ইমরান

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:১২ পিএম

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতে শান্তি ও সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন। চলমান ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ প্রস্তাব দেন তিনি। ইমরান তার ভাষণে বলেন, যুদ্ধ মানে কেউ জানে না তা কোথায় গিয়ে থামবে। খবর ডন

পাকিস্তানের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, তারা দুই দেশের নিয়ন্ত্রণ রেখায় শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তারা দুটি ভারতীয় যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত এবং দুই পাইলটকে আটকের দাবি করেছে। একজন পাইলটকে আটকের ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটি।

এরপর বিকেলে এ ভাষণ দেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। 

তিনি বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল থেকে যা ঘটেছে সে বিষয়ে আমি আমার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে। আমরা ভারতের পুলওয়ামায় যা ঘটেছে তার জন্য শান্তির প্রস্তাব দিয়েছিলাম।

'আমি বুঝতে পারি পুলওয়ামা হামলায় নিহতের পরিবারের বেদনা'।

তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে আমি ভারতকে বলেছি আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে পারি। কোনো জঙ্গিকে পাকিস্তানের ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া আমাদেরই স্বার্থ পরিপন্থী।

ইমরান খান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের মনে হয়েছিল ভারত এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবে এবং আক্রমণ অব্যাহত রাখবে। আমি তাদের যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সাবধান করেছিলাম কারণ কোনো দেশ তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হতে দিতে পারে না। 

' যখন ভারত গতকাল (মঙ্গলবার) আক্রমণ করল, আমি এবং আমাদের সেনাপ্রধান কথা বলেছি। আমরা তাৎক্ষণিক কোনো পাল্টা হামলায় যাইনি- কারণ এতে তাদের (ভারতের) ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

তবে পাল্টা হামলার সব প্রস্তুতি পাকিস্তানের রয়েছে বলে জানান ইমরান।

বুধবারের হামলা নিয়ে পাকিস্তানের নবনির্বাচিত এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আজকের হামলার উদ্দেশ্য ছিল এটাই দেখানো যে, তারা আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করতে পারো আমরাও তেমন পারি'। 
এ সময় ইমরান খান ভারতের দু'টি মিগ বিমান ভুপাতিত করা হয়েছে বলে জানান। 
তিনি বলেন, 'এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এখান থেকে আমরা কোথায় যাব, আমরা কি নিজেদের মেধা ও প্রজ্ঞাকে ব্যবহার করব'। 
ইমরান বলেন, যুদ্ধ মানে অবিরাম ক্ষয়ক্ষতি, কেউ জানে না তা কোথায় গিয়ে থামবে। ধারণা করা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এক সপ্তাহে থেমে যাবে, কিন্তু তা থেমেছিল ছয় বছরে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র কখনো ভাবেনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ১৭ বছরেও শেষ হবে না। 
'আমি ভারতকে প্রশ্ন করতে চাই, যে অস্ত্র আপনাদের আছে যে অস্ত্র আমাদের আছে তা দিয়ে কী আমরা 
বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে পারব? আর এ যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে তা আমার বা মোদির কারুর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না'। 
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, 'আমি আবারো আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি, আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা বুঝতে পারি পুলওয়ামা হামলায় ভারত যা হারিয়েছে তার বেদনা, আমরা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যেকোনো ধরনের সংলাপের জন্য প্রস্তুত।  
'আসুন আমরা বসি এবং আলোচনার মাধ্যমে এর মিমাংসা করি।'

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত