লালমনিরহাটে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:১৭ পিএম

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন  বিদ্রোহী প্রার্থীরা। নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় জেলায় কালীগঞ্জ উপজেলা ছাড়া অন্য চার উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই।

বিএনপি সমর্থিত ভোটাররা নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীকে বেছে নিবে এমন হিসেব নিকাশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভোটের পালে হাওয়া লেগেছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে দলের একাংশের গোপন সমর্থন। তাই এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা জানান, দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও দলের নেতা-কর্মীরা ভোট কেন্দ্রে যাবে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কৌশলের কারণে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অন্য কোন শক্ত প্রার্থীকে ভোট দেবে তারা। রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশায় তারা ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকেই বেছে নিবে। 

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাদল আশরাফ দেশ রূপান্তর জানান, যে সব প্রার্থী নৌকা প্রতীক পায়নি, তারাও দলের ত্যাগী নেতা-কর্মী। তাই ওই সব প্রার্থীকে বিদ্রোহী বলা সমীচীন হবে না। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ভোট উৎসবে যারা বিজয়ী হবে তাদেরকে দলে স্বাগত জানানো হবে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করছেন বর্ষীয়ান নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল হক পাটওয়ারী ভোলা। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে লড়ছেন কামরুজ্জামান সুজন। বয়সে তরুণ এই প্রার্থী দলের তেমন কোন  উল্লেখযোগ্য পদে না থাকলেও কৌশলগত কারণে দলের একটি  প্রভাবশালী অংশ গোপনে তাকে সমর্থন জোগাচ্ছেন এমন কথা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চাউর আছে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের  ২,৫১,৮৫৯ জন ভোটার ৮৯ টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

আদিতমারী উপজেলায় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল আলম নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিগত জোট সরকারের আমলে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ্জামানের ছেলে ইমরুল কায়েস ফারুখ। দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছে এখানকার ভোটাররা। ১০ মার্চ আদিতমারী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১,৬৬,২৩৬ জন ভোটার ৬৭ টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

কালীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সুবাতাস বইছে। এখানে দলের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় জয়ের ব্যাপারে খুব একটা বেগ পেতে হবে না বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুজ্জামান আহমেদকে।  এই উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নের ১,৮০,০৪৮ জন ভোটার ৭৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন।

হাতীবান্ধা উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এখানে নৌকা প্রতীকে ভোট করছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান ভেলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন রন্টু ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মশিউর রহমান মামুন। একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এ উপজেলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বিপাকে পড়েছে। কদর বেড়েছে বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের।  উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১,৬৭,৮৪০ জন ভোটার ৭২টি কেন্দ্রে ভোট দেবে।

পাটগ্রাম উপজেলায় নৌকা প্রতীকে ভোট করছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রহুল আমিন বাবুল। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ওয়াজেদুল ইসলাম শাহিন । এখানে অন্য আর কোন প্রার্থী না থাকায় দুজনের মধ্যে ভোট যুদ্ধ সীমাবদ্ধ থাকবে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়নের ১,৫০,১৭৩ জন ভোটার ৬০টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত