মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘এই সাফল্য বাংলাদেশের মানুষের’

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ১০:২৮ পিএম

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে মারিয়া মান্দা, আঁখি খাতুনরা। মেয়েদের এই সাফল্যকে পুরো দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন দলটির কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। বলেছেন- ‘এই সাফল্য পুরো দেশের মানুষের।’

এএফসির বয়স ভিত্তিক এই আসরের প্রথম পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় পর্বে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে মিয়ানমার ছাড়াও অন্য দুই দল ফিলিপাইন ও চীন। ফিলিপাইনকে ১০-০ গোলে উড়িয়ে আসর শুরু করে বাংলাদেশের মেয়েরা। শক্তিশালী মিয়ানমারের বিপক্ষে এদিনের ১-০ গোলের জয়ে এক ম্যাচ হাতে থাকতেই নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের চূড়ান্ত পর্বে খেলা। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনও এক ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত করে ফেলেছে চূড়ান্ত পর্ব। ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে এখন গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াই।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ ছোটন মিয়ানমার থেকে নিজের অনুভূতি জানালেন দেশ রূপান্তরকে। এ সময় সুখী এক কোচকে খুঁজে পাওয়া গেল, ‘‘আগেরবার আমরা চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিলাম। এবারও তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল চূড়ান্ত পর্বে কোয়ালিফাই করা। দেশ থেকে আসার আগে আমরা সেটিই বলে এসেছিলাম। মেয়েরা তা করে দেখিয়েছে। এই সাফল্য শুধু আমাদের দলের না, আমি বলব পুরো দেশের মানুষের সাফল্য।’’

মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিছুদিন আগে অলিম্পিক ফুটবলের প্রাক বাছাই পর্বে মিয়ানমারের মূল জাতীয় দলের বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এদিনও মাঠে মিয়ানমার প্রমাণ করেছে নিজেদের শক্তি। চাপ তৈরি করে খেলেছে বাংলাদেশের ওপর।

তবে সেই চাপকে জয় করেছে মারিয়া-আঁখিরা। যার পুরো কৃতিত্ব মেয়েদের দিলেন কোচ ছোটন, ‘‘প্রথম ২০-২৫ মিনিট আমাদের মেয়েরাই এগিয়ে ছিল। এরপর মিয়ানমার ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আমি আগেই বলেছিলাম মিয়ানমার শক্তিশালী টিম। তারা স্বাগতিক সুবিধাটা কাজে লাগিয়েছে। তবে আমাদের মেয়েরা খেলা থেকে হারিয়ে যায়নি। আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেই মেয়রা জয় ছিনিয়ে এনেছে। এর পুরো কৃতিত্ব আমি মেয়েদের দেব।’’

image

২০১৬ সালে ঘরের মাঠে একই আসরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এশিয়ার সেরা আটের সেই লড়াই। এবারও ১৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব।

তবে এবার বাছাই পর্বের ফরম্যাটে এসেছিল বদল। আগেরবার বাছাই পর্ব ছিল এক রাউন্ডের। এবার দল বাড়ায় বাছাই পর্ব হচ্ছে দুই রাউন্ডে। বাছাই পর্বের প্রথম পর্ব থেকে গ্রুপ সেরা ৬টি দল ও সেরা দুই রানার্সআপ নিয়ে হচ্ছে এই দ্বিতীয় পর্ব। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে দল গুলো। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি দল পাবে মূল পর্বের টিকিট। আগের আসরের সেরা তিন দল- উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে স্বাগতিক থাইল্যান্ড সরাসরি খেলবে সেখানে।

বাংলাদেশ ও চীনের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত হলো। ৩ মার্চ এখন চীন-বাংলাদেশ ম্যাচটি গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াই। তা শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে কি ভাবছেন বাংলাদেশ কোচ?

ছোটন বললেন, ‘‘আমরা চূড়ান্ত পর্বে কোয়ালিফাই করে ফেলেছি। তাই আমাদের আর হারানোর কিছু নেই। চীন বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দলগুলোর একটি। তবে আমাদের দল শেষ দুই বছরে অনেক সাফল্য পেয়েছে। অনেকগুলো শিরোপা জয় করেছে। চীনের বিপক্ষে ম্যাচে তাই নিজেদের যাচাই করার সুযোগ, যে আমরা কত দূর এগোলাম।’’

ছোটন যোগ করে বলেন, ‘‘আর চূড়ান্ত পর্বে যেহেতু উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলতে হবে, তার আগে এই ম্যাচটি (চীনের বিপক্ষে) ভালো প্রস্তুতি হবে বলে আমি মনে করি।’’

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত