শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হবিগঞ্জে চিকিৎসকের ১৫৩ পদের ১১১টি শূন্য

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ০১:০৩ এএম

হবিগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-সংকট প্রকট। জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশিরভাগ চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র থাকায় চিকিৎসক-সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

জেলায় সিভিল সার্জন অফিসের দুজন মেডিকেল অফিসারসহ আট উপজেলায় অনুমোদিত চিকিৎসক পদের সংখ্যা ১৫৩টি। অথচ কর্মরত আছেন মাত্র ৪২ জন। হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর উপজেলায় মোট ১৩ চিকিৎসকের মধ্যে কর্মরত দুজন, চুনারুঘাট উপজেলায় ২০ জনের স্থলে চারজন, লাখাই উপজেলায় ১৫ জনের মধ্যে তিনজন চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। মাধবপুর উপজেলায় ৩২ জন চিকিৎসক থাকার কথা। সেখানে কর্মরত আছেন নয়জন। নবীগঞ্জ উপজেলায় ২২ জনের মধ্যে পাঁচজন, বানিয়াচঙ্গ উপজেলায় ২০ জনের স্থলে চারজন রয়েছেন। আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ জনের মধ্যে পাঁচজন কাগজপত্রে কর্মরত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে সেবা দিচ্ছেন তিনজন চিকিৎসক। বাকি দুজনের একজন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অন্যজন প্রেষণে অন্যত্র চাকরি করছেন। চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ পাঁচটি কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। মাত্র একজন কাগজপত্রে কর্মরত থাকলেও তিনিও প্রেষণে ঢাকা রেলওয়ে হাসপাতালে চাকরি করছেন। বাহুবল উপজেলায় পাঁচ কনসালট্যান্টের মধ্যে গাইনি ও শিশু বিভাগের দুজন কর্মরত আছেন। মাধবপুরে ১০ জন কনসালট্যান্ট থাকার কথা। এর মধ্যে আটটি পদই খালি। কর্মরত দুজনের মধ্যে একজন আবার হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেষণে কাজ করছেন। লাখাই উপজেলায় চারটি কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে দুটি পদ শূন্য রয়েছে। খাতাপত্রে দুজন থাকলেও তারা দুজনই প্রেষণে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে কাজ করছেন। নবীগঞ্জ উপজেলায় চার কনসালট্যান্টের পদ সবগুলোই খালি।

জেলার বেশিরভাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন, গাইনি, নাক কান গলা, কার্ডিওলজি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি, অ্যানেস্থেসিয়া, চক্ষু, রেডিওলজিস্ট, অর্থোসার্জারি, শিশু বিভাগ ও ডেন্টাল সার্জন পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটে এসব সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা-প্রত্যাশীরা অন্যত্র গিয়ে সেবা নিচ্ছেন। অথচ স্বল্প আয়ের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই একমাত্র ভরসা।

চিকিৎসক ও কনসালট্যান্ট সংকট সম্পর্কে জেলা সিভিল সার্জন সুচিন্ত্য চৌধুরী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকরা কিছুদিন চাকরি করেই ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের আদেশে প্রেষণে বা উচ্চতর ডিগ্রির জন্য বদলি হয়ে যান। ফলে শূন্য পদগুলো শূন্যই থেকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রেষণে, সংযুক্তিকরণ বন্ধ করা না হলে চিকিৎসাসেবা খাতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা যাবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত