শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সুলতান ও মোকব্বিরের শপথ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে গণফোরাম: মোশাররফ

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ০৯:৫৫ পিএম

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার যে ঘোষণা গণফোরামের দুই নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান নিয়েছেন তা তাদের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন,  তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে গণফোরাম।

তিনি জানান, ‘তবে বিএনপির কেউ শপথ নেবেন না’। ৭ মার্চ ওই দুই বিজয়ী প্রার্থী শপথ নিতে জাতয়ি সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন বরাবর চিঠি দিয়েছেন শনিবার।  

রোববার বিকালে কৃষক দলের সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব বলেন। 

মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের জনগণ জানে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারেননি। বিএনপি এই তথাকথিত ভোট ডাকাতির নির্বাচন প্রত্যাখান করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত রয়েছে, যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা কেউ শপথ নেবেন না। সংসদে যোগ দেবেন না। এটাই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত। 

‘মৌলভীবাজার-২ আসনে নির্বাচিত সুলতান মনসুর বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন সেক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ আছে কিনা?’ জানতে চাইলে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, শপথ নেওয়ার পরে দলের বিধি বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘গণফোরামের দুই সাংসদ সংসদে যোগ দিলে বিএনপির সঙ্গে দলটির কোনো টানাপোড়ন সৃষ্টি হবে কিনা?’-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। বড় একটা লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে।  বিএনপি হচ্ছে এই ফ্রন্টের প্রধান ও বৃহত্তম দল। বিএনপি বিশ্বাস করে, গণফোরামের যদি কেউ সংসদে যোগ দেয়ও তাতে ঐক্যফ্রন্টের যে একটা বৃহৎ লক্ষ্য আছে সেখানে কোনো অসুবিধা হবে না।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সে প্রসঙ্গে মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার যেহেতু জনগণের সরকার নয়, জনগণের মতামতের প্রতি কোনো তোয়াক্কা না করে আজকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। গ্যাসের দাম তারা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে আজকে যে অবস্থায় নিয়ে গেছে তাতে আবার যদি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি হয় তাহলে এটা ‘মরার উপরে খাঁড়ার ঘা’ হবে।

উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ভোট হয়নি। সে নির্বাচনে ৩শ’ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এখন উপজেলা নির্বাচনে খরচ ধরা হয়েছে ৯শ’ কোটি টাকা। এত টাকা খরচ করার দরকার নাই। কারণ নৌকা প্রতীকে যারা মনোনয়ন পাবেন তারাই বিজয়ী হবেন। শুধু শুধু অর্থ খরচ করে এই নির্বাচনের কোনো মানে হয় না।

সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এই অর্থ অপচয় থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, যেহেতু এখানে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী নেই সেহেতু নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে দিলেই নির্বাচন নামের নাটক শেষ হয়ে যায়। 

এর আগে সকাল ১১ টায় জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নবগঠিত আহবায়ক কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জ্জামান দুদু ও সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিনের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, তকদীর হোসেন মো. জসিম, তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, এম নাজিমউদ্দিন, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, মাইনুল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত