মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আ. লীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগ বিদ্রোহী প্রার্থী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ১১:২৮ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছোট ভাইয়ের ধাক্কায় বড় ভাই আওয়ামী লীগ নেতা তপন কুমার সরকার (৭০) মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তপন কুমার সরকার নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি। তার আপন ছোট ভাই বিপ্লব কুমার সরকার দিপু একই উপজেলার  আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার রাত আটটার দিকে বাহাগিলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের হাটে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নৌকার প্রার্থী  জাকির হোসেন বাবুলের প্রচারণায় ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি তপন কুমার সরকার। এ সময় তার আপন  ছোট ভাই আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং একই উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বিপ্লব কুমার সরকার দিপু সেখানে গিয়ে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় নামার কারণ জানতে চান বড় ভাই তপন কুমারের কাছে। এতে দুই ভাই বিপ্লব কুমার ও তপন কুমারের বচসা এবং তারপর ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে তপন কুমার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাহাগিলি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ দুলু অভিযোগ করে বলেন, ‘রোববার রাত আটটার দিকে তপন কুমার সরকারসহ আমরা বাহাগিলি ইউনিয়নের  চেয়ারম্যানের হাট এলাকায় নৌকার পক্ষে মাইক্রোবাসে যোগে প্রচারণা চালাচ্ছিলাম।  এ সময় সেখানে তপন কুমার সরকারের আপন ছোট ভাই আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপ্লব কুমার সরকার দিপু এবং তার মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থকদের নিয়ে  আমাদের মাইক্রোবাস প্রতিরোধ করে। একপর্যায়ে  তপন কুমারকে মাইক্রোবাস থেকে জোর পূর্বক নামিয়ে নিয়ে কেন তার পক্ষে প্রচারণা না করে নৌকার পক্ষে প্রচার নায় অংশ নিয়েছেন বলে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব কুমার  বড় ভাই তপনের  শরীরে কিল ঘুষি মারলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমরা আহত তপন কুমার সরকারকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করে বলেন ছোট ভাইয়ের কিলঘুষির আঘাতেই মারা যায় তপন কুমার সরকার।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের ছোট ভাই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপ্লব কুমার সরকার দিপু। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমার বড় ভাই তপন কুমার সরকার ডায়াবেটিস ও হৃদ রোগের রোগী।  নৌকা প্রতীকের লোকজন তাকে বাড়ি থেকে জোর করে নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়ে আসেন চেয়ারম্যানের হাটে। আমরা ধারণা সে নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পরেছেন সময়মতো হাসপাতালে না নেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমার সঙ্গে তার কোন বচসা কিংবা ধাক্কা ধাক্কির ঘটনা ঘটেনি। অথচ আমার প্রতিপক্ষরা ফায়দা লুটার অপচেষ্টা করছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুজা শরীফ জেমস বলেন.‘  তপন কুমার সরকারকে চিকিৎসা দেওয়ার কোন সুযোগ পায়নি, কারণ তাকে মৃত অবস্থায় লোকজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসনে। তবে তার শরীরে কোথাও  কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ জানান,‘ দুই ভাইয়ের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কিও ঘটনা ঘটলে তপন কুমার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালেই রয়েছে। মরদেহর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনাটি তদন্ত চলছে।’

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত