সম্প্রতি দুদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও সরকারি দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শনের মতো গাইবান্ধায় পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক (অডিট ও ডিউটি) ইন্সপেক্টর ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সেজে প্রতারণার অভিযোগে সাত ভুয়া কর্মকর্তা এবং এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের চকবরুল কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে থেকে কিছু ভুয়া কাগজপত্র ও পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ডেকে বিষয়টি জানায় সদর থানার পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ছাট চকবরুল গ্রামের সুকুমার চন্দ্র শীলের ছেলে সঞ্জয় চন্দ্র শীল (২৬), বোয়ালী ইউনিয়নের পিয়ারাপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে আতিকুর রহমান (৩৫), রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কিশামত গোপালপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী কাকলি খাতুন (২৪), গাইবান্ধা পৌরসভার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকার চান মিয়ার ছেলে রায়হান সরকার (২৫), সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের গটিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান তালুকদারের ছেলে সারোয়ার হোসেন (২৫), পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুকজামিরা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রুবেল মিয়া (২১), পবনাপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট গ্রামের লিমন মিয়ার স্ত্রী মুর্শিদা আক্তার রুমি (২৩) ও গাইবান্ধা পৌরসভার ব্রীজরোড কালিবাড়ী পাড়ার নারু গোপাল দাসের ছেলে সাংবাদিক তপন চন্দ্র দাস (৩৬)। তপন চন্দ্র দাস স্থানীয় ও জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিকটিতে সকাল থেকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মমিনুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো কাজ করছিলেন। এ সময় সদরের স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) আব্দুল হান্নান ওই ক্লিনিকটি পরিদর্শনে যান।
দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, পরিদর্শক (অডিট ও ডিউটি) ইন্সপেক্টর, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় লেখা একটি মাইক্রোবাসে চড়ে সঞ্জয় চন্দ্র শীল, আতিকুর রহমান, কাকলি খাতুন, রায়হান সরকার, সারোয়ার হোসেন, রুবেল মিয়া, মুর্শিদা আক্তার রুমি ও তপন চন্দ্র দাস ক্লিনিকের সামনে যান।
এসময় তারা অফিসে প্রবেশ করে সাধারণ রোগী রেজিস্ট্রার, পরিদর্শন বই ও সার্ভিস বুক চেয়ে নেন। সঞ্জয় চন্দ্র শীল নিজেকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও অডিট অফিসার বিভাগীয় প্রধান পরিচয় দিয়ে এগুলো দেখার পর বলেন রেজিস্ট্রার ঠিক নাই। চাকরি থাকবে না বলে হুমকি দিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করে দেওয়া ও ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না মর্মে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন মমিনুল ইসলামের কাছে।
এসময় মমিনুল ইসলাম বিষয়টি আব্দুল হান্নানকে জানান। আব্দুল হান্নান এসে তাদের সাথে কথা বললে ওই আটজন ব্যক্তি এলোমেলো কথা বলেন।
এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সুমন এসে হাজির হন। তার সঙ্গে সঞ্জয় চন্দ্র শীল একজন ভুয়া সিভিল সার্জন পরিচয়দানকারী ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইলে কল দিয়ে যোগাযোগ করে দেন।
ওই ভুয়া সিভিল সার্জন তাদের আপ্যায়ন করার কথা বলেন। এ সময় আব্দুর রউফ সুমন তাকে ওই ক্লিনিকে আসতে বললে তিনি মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন। এ সময় আব্দুল হান্নান বিষয়টি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ বি এম আবু হানিফকে জানান। তিনি সদর থানায় যোগাযোগ করে ওই ক্লিনিকে পুলিশ পাঠান।
এসময় আবু হানিফের সাথে সঞ্জয় চন্দ্র শীল কথা বলার সময় তাকেও দেখে নেবেন বলে হুমকি দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় ও তাদের কাছ থেকে ভুয়া কাগজপত্র ও পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই আটজন ব্যক্তি বাদিয়াখালী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলামকে ভয়ভীতি দেখান ও টাকা দাবি করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন মমিনুল ইসলাম। তারা সরকারি কর্মচারী পরিচয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন ও দুই নারী অ্যাপ্রোন পরিহিত অবস্থায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন।
এ দুটি ঘটনা ছাড়াও গত সপ্তাহে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের আরেকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়েও একই ধরনের কর্মকাণ্ড- চালিয়ে তারা টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মইনুল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। জব্দকৃত কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
