নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনা

একমাত্র সন্তানের স্মৃতি হাতড়ে দিন কাটে প্রিয়কের মায়ের

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ০৫:৩০ এএম

স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিমানে চড়ে আকাশ থেকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত দেখার ইচ্ছে পূরণ করতে ঠিক এক বছর আগে আজকের দিনে (১২ মার্চ) ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে নেপাল রওনা হয়েছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামের এফ এইচ প্রিয়ক ওরফে ফারুক হোসেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি ও একমাত্র সন্তান প্রিয়ংময়ী। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি ফারুকের। নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয় ওই বিমানটি। নিহত হন ফারুক ও প্রিয়ংময়ী।

সৃষ্টিশীল যুবক প্রিয়কের শখগুলোর মধ্যে প্রধান একটি ছিল ফটোগ্রাফি, যেখানেই যেতেন ক্যামেরা ছিল তার অবধারিত সঙ্গী। নিজের ছবির পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা ছবিগুলো দিয়ে গাজীপুরের বাড়ির ঘরগুলো পূর্ণ করে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু তার শখের ছবিগুলোই যে মা ফিরোজা বেগমের শেষ জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হবে তা কে ভেবেছিল!

২০১২ সালে স্বামী সরাফত আলীকে হারান ফিরোজা বেগম। এরপর থেকে প্রিয়কই হয়ে উঠেছিল তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিছুদিন পর ছেলেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে আনেন আলমুন নাহার এ্যানিকে। দেড় বছরের মাথায় তাদের ঘর আলোকিত করে জন্ম হয় প্রিয়ংময়ীর। এর পর থেকে তাদের সংসারে তৈরি হচ্ছিল সুখের আবহ। তবে তা আর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। নেপালে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সবকিছু। প্রিয়কের মা ফিরোজা বেগম গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রিয়কের পছন্দের ফুলের তালিকায় ছিল কামিনী। নিজ হাতে বাড়ির প্রবেশমুখে রোপণ করেছিল কামিনীগাছ।’

ছেলের পছন্দের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে তার মা মৃত্যুর পর ওই কামিনী গাছ তলায় ছেলে ও নাতনিকে কবর দিয়েছেন জানিয়ে ফিরোজা বেগম বলেন, ‘নিজের ঘরের জানালা দিয়ে ছেলের কবরের দিকে তাকিয়েই দিন-রাত কেটে যাচ্ছে।’

স্বামী, সন্তান ও নাতনি হারিয়ে নিজের কষ্টের কথা বলতে বলতে অঝোরে কাঁদছিলেন ফিরোজা বেগম। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে জানান, পুত্রবধূ এ্যানিও ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসে স্বামীর বাড়ি চলে গেছেন। এখন ছেলে ও নাতনির রেখে যাওয়া স্মৃতি নিয়েই একাকী দিন কাটে তার। ঘরের বিভিন্ন স্থানে টানিয়েছেন ছেলের তোলা ছবিগুলো।

প্রিয়ক ছাড়া আর কোনো সন্তান না থাকায় ইসলামি শরিয়া মোতাবেক অধিকাংশ সম্পত্তি শরিকদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন ফিরোজা বেগম। বাদবাকি সম্পত্তি থেকে ছেলে ও নাতনির নামে একটি মসজিদ ও মাদ্রাসার নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। এ ছাড়া ডুপ্লেক্স বাড়িটিতে প্রিয়কের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি হাসপাতাল চালুর স্বপ্নের কথাও জানান তিনি। যেখান থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবে হতদরিদ্ররা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত