সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: ৬২৩ কার্যদিবসে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১০৫ দিন

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ১১:৪৯ পিএম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে ৬২৩ কার্যদিবসে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১০৫ দিন। অথচ, রাষ্ট্রপতির দেওয়া চার শর্তের প্রথম শর্তই হচ্ছে উপাচার্য হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির দেওয়া শর্তের বারবার অবমাননা করে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন উপাচার্য কলিমউল্লাহ।

এদিকে দিনের পর দিন ক্যাম্পাসে উপাচার্য অনুপস্থিত থাকায় ভেঙে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেইন অফ কমান্ড। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি উপেক্ষা করে অধিকাংশ সময় ক্যাম্পাসে না থাকায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অন্যদিকে, উপাচার্যের অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা নিচ্ছেন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ জুন চার শর্তে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। নিয়োগ প্রাপ্তির ১৩ দিন পর ১৪ জুন যোগদান করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির দেওয়া চার শর্তের প্রথমটি ছিল উপাচার্য সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। কিন্তু, যোগদানের পর থেকে নিয়োগের এই শর্ত অমান্য করে ধারাবাহিকভাবে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন তিনি। ১৪ জুন যোগদানের পর ৬২৩ কার্যদিবসের মধ্যে উপাচার্য ক্যাম্পাসে ছিলেন মাত্র ১৫০ দিনের মতো। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ছয় মাসে ৬৯ দিন, ২০১৮ সালের ১২ মাসে ৭১ দিন এবং চলতি বছরের গত দুই মাসে ৭ দিন ক্যাম্পাসে ছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশেষ কারণ ছাড়া ক্যাম্পাসে আসেন না উপাচার্য। সাধারণত, সভা-সেমিনারের উদ্বোধন, দায়িত্ব অর্পণ, আইডি কার্ড বিতরণ ও কিছু জাতীয় কর্মসূচিতে ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। আর, এভাবে মাঝে মাঝে আসলেও সকালে এসে দুপুরে, অথবা দুপুরে এসে রাতে কিংবা রাতে এতে সকালে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তিনি।

তিনি যোগদানের পর অধিকাংশ সিন্ডিকেট সভা, শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড, কর্মকর্তা নিয়োগ বোর্ড ও কর্মচারী নিয়োগ বোর্ড ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর, নিয়োগ প্রাপ্তির পর তিনি কয়েকটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় জরুরি প্রয়োজনে বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষর নিতে অনেক শিক্ষার্থীকে ঢাকায় যেতে হয়েছে। তিনি প্রায় ২৫ টি কোর্সের ক্লাস নিতেন। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ডাকতেন তিনি। আর, ওই সব কোর্সের পরীক্ষা গ্রহণ করতেন উপাচার্যের পিএ আবুল কালাম আজাদ। এসব কোর্সের পরীক্ষার খাতা কে মূল্যায়ন করেন তা নিয়েও রয়েছে নানান প্রশ্ন।

এদিকে, যোগদানের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যাপক রদবদল করেন উপাচার্য। এতে, অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা বঞ্চিত হন। আবার, অনেকেই দুই-তিন এমনকি চারটি পর্যন্ত প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব পান। এছাড়া, অনেক কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই অঘোষিতভাবে ওএসডি করে রেখেছেন উপাচার্য। তারা মাসের পর মাস কোনো কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাদের নিজেদের দপ্তরের কাজ করছেন উপাচার্যের আনুকূল্যে থাকা ৪/৫ জন কর্মকর্তা।

বেরোবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপাচার্য ক্যাম্পাসে থাকেন না সে বিষয়টি সবার জানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবার আন্তরিকতা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা প্রফেসর ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছি। শিক্ষক সমিতির সভায় বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আবার কথা বলব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত