ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ করতে একটি বিল অনুমোদন করেছে দেশটির কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। এর আগে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে এ সংক্রান্ত রেজুলেশন পাশ হয়।
বিবিসি জানায়, বুধবার রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সিনেটে ৫৪-৪৬ ভোটে বিলটি পাশ হয়। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে মার্কিন সহায়তার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিরস্কারও করা হয়।
এদিন দেশটির শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “ভয়াবহ এ যুদ্ধ বন্ধ করতে বড় ধরণের পদক্ষেপ নিতে আমাদের একটা সুযোগ এসেছে। এই যুদ্ধের ফলে যে ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে ইয়েমেন পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশে পরিনত হয়েছে।”
ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, “এটি আর গোপন নেই যে, কেন সেখানে মহামারি আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি জোট বোম ফেলে দেশটির পানি ব্যবস্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে। সেখানে এখন সুপেয় পানির চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে প্রতিনিধি পরিষদে আনা এক রেজুলেশনে মার্কিন আইন প্রণেতা জিম ম্যাকগভার্ন বলেন, “ইয়েমেনে অধিকাংশ বিস্ফোরিত বোমাই যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত। এসব বোমা ইয়েমেনের বিয়ের অনুষ্ঠানে ফেলা হচ্ছে, ঘরে এমনকি হাসপাতালেও। জানাযায়, শরণার্থী ক্যাম্পে, স্কুলের বাসেও বোমা ফেলা হচ্ছে।”
আগের বছরের ডিসেম্বরেও ইয়েমেনে মার্কিন সহায়তা বন্ধে অনুরূপ একটি রেজুলেশন পাশ হয় নিম্নকক্ষে। কিন্তু কংগ্রেসের মুলতবি ঘটায় বিলটি অকার্যকর হয়ে যায়।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে সরকার ও হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিদের বিরুদ্ধে দেশটির নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত নেতৃত্বাধীন জোট।
২০১৫ সালে এই জোট ইয়েমেনে হামলা চালায়। এতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। যুদ্ধে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। গত দুই বছর ধরে এই যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমালোচনা তীব্র হতে শুরু করে।
সাহায্য ও সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, এ যুদ্ধে ৬০ হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, এতে ক্ষুধা ও কলেরায় পাঁচ বছরের কমবয়সি প্রায় ৮৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে৷
