প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পাঁচটি প্যানেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বর্জন করলেও কেবল প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য সংবাদ সম্মেলন করে নতুন আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং দুপুর ১২টায় উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন ডাকসু নির্বাচনে বাম জোটের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী লিটন নন্দী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে রোববার দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সোমবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে সেখান থেকে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেওয়া হবে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে।
নির্বাচন বর্জনকারী অন্য প্যানেলগুলো হলো- বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও ছাত্র ফেডারেশন।
সংবাদ সম্মেলনে বাকি চার প্যানেলের প্রতিনিধিরা কেন আসেনি- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে লিটন নন্দী বলেন, “তারা আলাদা সংবাদ সম্মেলন করবে। তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করবে।”
এসময় ডাকসু নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভিপির বক্তব্য ধোঁয়াশাপূর্ণ। তার বক্তব্য আন্দোলনের স্পিরিটের জন্য ক্ষতিকর। আমরা আশা করি, তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করবেন, আমাদের সমর্থন দেবেন।”
দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভোট বর্জন করেও ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল হক নুর। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হয়েছেন সাদ্দাম হোসেন।
ডাকসুর মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২৩ টিতেই ছাত্রলীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ১৮টি হল সংসদের মধ্যে ১২ টিতে ভিপি পদে জয়ী হয়েছে ছাত্রলীগ। বাকি ছয়টি হলে ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
তবে বস্তাভর্তি সিলমারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ভোটের দিন দুপুরেই ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সাত প্যানেলের শিক্ষার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। পরদিন নতুন নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে বাম জোটসহ পাঁচটি প্যানেল।
