সাংবাদিক ও ভাওয়াইয়া সংগীত শিল্পী শফিউল আলম রাজা মারা গেছেন। রবিবার বিকেল চারটার দিকে বাসার দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। রাজার মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মৃত্যুর আগেও গানের সঙ্গে ছিলন তিনি। শনিবার রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এশিয়ান টেলিভিশনে লাইভ গানের অনুষ্ঠানে ছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাসার দরজা ভেঙে শফিউল আলম রাজার লাশ উদ্ধার করা হয়। সুরতহালে মনে হচ্ছে তিনি হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী বা সন্তানদের কেউ বাসায় ছিল না। তিনি পল্লবীর থানাধীন সেতারা টাওয়ারের পেছনের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
শফিউল আলম রাজার শ্যালিকা শিল্পী জানান, ঘটনার সময় তার বোন (রাজার স্ত্রী) অফিসে ছিলেন আর বাচ্চারা স্কুলে। রাজা বাসাতেই ঘুমাচ্ছিলেন। বরাবরই দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা তার অভ্যাস ছিল। আর রবিবার তিনি আর তিনি ঘুম থেকে ওঠেননি। মিরপুরের সাড়ে এগারোতে শফিউল আলম রাজার ‘কলতান’ নামে ভাওয়াইয়া গান শেখানোর একটি একটি স্কুল রয়েছে। এ ছাড়া ভাওয়াইয়া গানের দল নামে শিল্পী সংগঠনের পরিচালক ছিলেন রাজা।
শফিউল আলম রাজার ভাগনে প্রিন্স রোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার মামা এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। রাজার প্রথম স্ত্রীর সন্তান ফারিয়া তাবাচ্চুম ফারিয়া সানি। প্রথম স্ত্রীর অকাল মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন রাজা। দ্বিতীয় স্ত্রীর সীমার আক্তারের ঘরে শামস ও নায়াক নামে দুই ছেলে রাজার। তাকে গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রারেম চিলমারিতেই দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে রোমান।
বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত এই শিল্পী শফিউল আলম রাজা সর্বশেষ প্রিয় ডটকমের চিফ রিপোর্টার ছিলেন। এর আগে দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক অর্থনীতি পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন রাজা।
এ ছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন রাজা। তার মৃত্যুতে ডিআরইউর সভাপতি ইলিয়াস হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক কবির আহম্মেদ খানসহ নেতৃবৃন্দ গভীর শোক জানিয়েছেন।
