উখিয়ায় ক্যাম্প ইনচার্জ ও পুলিশের ওপর রোহিঙ্গাদের হামলা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০৮:০১ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে উগ্রবাদী কিছু রোহিঙ্গা।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৬নং ক্যাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছেন, ওই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্যের বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের দুইটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্প ইনচার্জসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে রোহিঙ্গারা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৭/৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে রোহিঙ্গারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় সেনা সদস্য পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ১০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটক রোহিঙ্গারা হচ্ছে কুতুপালং ক্যাম্প-২ এর আবদুর রহমানের ছেলে মো. ইসমাইল (২৩), কুতুপালং ৬ এর মোহাম্মদ জলিলের ছেলে মাহমুদ হোসেন (৩০), ক্যাম্প-২ এর হাবিব উল্লাহ ছেলে মোহাম্মদ আলম (১৮), ছৈয়দ আলমের ছেলে মোহাম্মদ (২৯), সাহাব মিয়ার ছেলে ভুট্টু আলম (৫০), ক্যাম্প-৭ এর শামশুল আলমের ছেলে মো. রফিক (১৪), ক্যাম্প-৬ এর মোহাম্মদ আইয়ুবের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুছ (১৮), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ রফিক (১৮), দিল মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ আমিন (১৮), ক্যাম্প-৭ এর জাহেদ হোসেনের ছেলে খায়ের মোহাম্মদ (৫৫)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ৬নং ক্যাম্পের অদূরে জনমানবহীন নৌকার মাঠ এলাকাটি ইসমাইল গ্রুপ নামের এক রোহিঙ্গা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাতে বিচরণ করত। কিন্তু, তিন মাসে আগে মোহাম্মদ ইউনুছ নামের এক রোহিঙ্গা নেতা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার সুযোগে ওই এলাকায় দখল নেয় ইসমাইল গ্রুপ।

গত এক মাস ইউনুছ জেল থেকে ছাড়া পেয়ে নৌকার মাঠ পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে ইতি পূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার হামলা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত আড়াইটার দিকে রোহিঙ্গা নেতা ইউনুছ তার গ্রুপ নিয়ে নৌকার মাঠটি দখলে নিতে গেলে দু-গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উচ্ছৃঙ্খল রোহিঙ্গারা তাদের লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে।

এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৭/৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে মারলে রোহিঙ্গারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থল থেকে সেনা সদস্য ও পুলিশ ১০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে।

উখিয়ার থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, ক্যাম্প ইনচার্জ ও পুলিশের ওপর হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আটক ১০জন রোহিঙ্গাকে বিকেলে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ক্যাম্পে আরও নজরদারি বাড়িয়েছে এবং উচ্ছৃঙ্খল রোহিঙ্গাদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত