ব্রেক্সিটে নাগরিকত্ব সংকটে কয়েক লাখ ব্রিটিশ শিশু

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১০:২৬ পিএম

ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব সনদপ্রাপ্ত কয়েক লাখ ব্রিটিশ শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক একাধিক দাতব্য সংস্থার বরাত দিয়ে এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

গত সোমবার দাতব্য সংস্থা দ্য কোরাম চিলড্রেনস লিগ্যাল সেন্টারের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেটেলমেন্ট স্কিমের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থার কারণে ব্রেক্সিট হলে ওই শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ওই স্কিমের আওতায় যুক্তরাজ্যের ৩৫ লাখের বেশি নাগরিক ইউরোপের ২৭ দেশের নাগরিকত্ব সুবিধা পেয়ে আসছে।

ব্রেক্সিটের পর ওই নাগরিকরা যুক্তরাজ্যে থাকতে চাইলে অনলাইনে ‘সেটেলড স্ট্যাটাস’ পূরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের অন্তত পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বাস করার সনদ জমা দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও অনেক যৌথ নাগরিকত্বপ্রাপ্ত অনেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর বাস করছে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে কেউ অনলাইনে ফর্ম পূরণে ব্যর্থ হলে বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্য কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে তাকে অনথিভুক্ত ঘোষণা করা হবে। কোরামের মতো সংস্থাগুলো জানায়, অনেক অনাথ শিশু যারা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার আবাসনে বড় হয়েছে বা হচ্ছে তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এছাড়া যেসব সন্তানরা তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তারাও বিপদের মধ্যে পড়বে বলেও বলা হচ্ছে। কোরামের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা ম্যারিয়েন লার্গে বলেন, ‘ওই স্কিমের ফলে অনেকের জীবনে যে জটিলতা চলে আসবে সে ব্যাপারে এখনো কোনো পক্ষই ভাবছে না। সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যায় না। মানুষের জীবনের ক্ষেত্রে অনেক কিছুই সরল পথ ধরে এগোয় না।’ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির মাইগ্রেশন অবজারভেটরির মতে, ইইউতে বসবাসরত বাবা-মায়ের সন্তানরা যুক্তরাজ্যে বাস করছেন এমন সংখ্যা নয় লাখের বেশি, এদের মধ্যে আইরিশ নাগরিকরা নেই। ২ লাখ ৩৯ হাজার আইরিশ শিশু যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছে কিন্তু তারা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব পায়নি। ব্রিটিশ সরকার ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ইইউ সেটেলমেন্ট স্কিমের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে। সরকারের এক পরিসংখ্যান মতে, এখন পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে, যারা তাদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করতে চাইছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত