প্রধানমন্ত্রী খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন: রিজভী

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ০১:১৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রী এত দিন পর খোলস ছেড়ে আসল রূপে বেরিয়ে এসেছেন। গণতন্ত্র-গণতন্ত্র বলে কথার কুহেলিকা ভেদ করে প্রধানমন্ত্রীর গণবিরোধী নাৎসিবাদের মূল চেহারাটা জনগণের নিকট উন্মোচিত হলো।– বললেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সব কথা বলেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, “নব্য বাকশালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার বিকেলে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান প্রবর্তিত বাকশাল কার্যকর থাকলে নির্বাচন নিয়ে কোন বিতর্ক থাকতো না, প্রশ্ন উঠত না। বাকশাল ছিল সর্বোত্তম পন্থা।”

তিনি বলেন, “আসলে শেখ হাসিনা পিতার প্রদর্শিত দর্শনে বিশ্বাসী বলেই একতরফা, মিডনাইট নির্বাচন এবং বিরোধী দল ও ভিন্নমতবিহীন গণতন্ত্রেরই পূজারি। জনগণের পক্ষ থেকে আমার প্রশ্ন, তাহলে কি তিনি তার পিতার মতো জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে সব দল, বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্র, ট্রেড ইউনিয়ন ও পেশাজীবী সংগঠন নিষিদ্ধ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছেন?”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “আপনারা জানেন, বাকশাল গঠন করার পর ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব বিনা ভোটে জেলা গভর্নর বানিয়েছিলেন। আর আজ তার যোগ্য কন্যা জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টি আগের রাতে সিল মেরে নির্ধারণ করেছেন। এবারে গভর্নরের মতো বিনা ভোটে জেলা চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হতে নৌকা প্রতীক লাগে, জনগণের ভোট লাগে না। অলিখিত বাকশাল তো এখনো চলছে।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, “কিছুদিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগের রাত্রে ভোট চুরির স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিনও দুই দিন আগে স্বীকার করেছেন রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার কথা। এত কিছুর পরও বাকশাল বলতে আর বাকি কী থাকলো।”

ওই সময় খালেদার ওপর ব্যক্তি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, “আজ আর দেশের মানুষের বুঝতে এতটুকু বাকি নেই যে, প্রধানমন্ত্রীকে চরম প্রতিহিংসার বাসনা চরিতার্থ করতে পেয়ে বসেছে। তিনি পরিত্যক্ত অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে কারাগারে ভয়াবহ ও চূড়ান্ত অসুস্থ দেশনেত্রীর যন্ত্রণার ছটফটানি দেখে আনন্দ উপভোগ করছেন। আজ দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে, তিনি অকল্পনীয় জনপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জীবিত দেখতে চান না।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত