সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়াটাই কাল হয়ে দাঁড়াল কক্সবাজারের মেয়ে রাফিয়ার। ছোট মেয়েটি তার ছোট দুটি হাতে সংসারের ভার তুলে নিতে ঝিনুক কুড়াত আর ফুল বিক্রি করত। ফেসবুকে তার ছবি ভাইরাল হওয়ার পর অর্থ উপার্জনের উপায়গুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম এখন।
সম্প্রতি ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছে রাফিয়া।
ভিনদেশি এক যুবক প্রথম ফেসবুকে তার ছবি আপ করে। এরপর তা ভাইরাল হতে শুরু করে।
কক্সবাজার সদরের ঝিলংঝা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কলাতলীর ঝিরঝিরি পাড়ায় তার বাড়ি। সে ওই এলাকার দরিদ্র আবদুল করিমের কন্যা রাফিয়া। বাবা দিনমজুর, মা রহিমা বেগম গৃহিণী। রাফিয়ার বয়স মাত্র ১০ বছর। পরিবারে চার ভাই-বোনের মধ্যে রাফিয়া মেজ। বাবা আব্দুল মালেক নির্মাণকাজ করতে গিয়ে পড়ে কোমরে আঘাত পান।
এরপর থেকে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। বাবার এমন পরিস্থিতিতে সৈকতে ঝিনুক ও ফুল বিক্রি করে পরিবারে খরচ যোগাত রাফিয়া।
রাফিয়ার চাচা মহিউদ্দীন জানান, ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে রাফিয়া ঝিনুক নিয়ে সৈকতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। একই ভাবে স্কুলেও যাচ্ছে না। আপাতত রাফিয়া অনেকটা ঘরবন্দী।
মা রহিমা বেগম জানান, রাফিয়ার বাবা অসুস্থ হওয়ার পর শিশু কন্যাকে ঝিনুক নিয়ে সৈকতে পাঠাতো। সে ঝিনুক বিক্রি করে যা আয় করতো তা দিয়ে চলতো তাদের সংসার। সে প্রতিদিন তিন থেকে চার শ টাকা আয় করত।
ভিনদেশি পর্যটক তার ক্ষতি করেছে জানিয়ে রাফিয়া বলেন, ফেসবুক কী সে চেনে না। ফেসবুকে ছবি দিলে এমন পরিণতি হবে জানলে সে ছবি তুলতে দিত না।
