একটি জাতির মেরুদণ্ড গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। এই সিদ্ধবাক্যটি আবারও প্রমাণ করলেন কেনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল রিফট ভ্যালির এক শিক্ষক পিটার তাবিচি। এই গণিত ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য নিজের বেতনের ৮০ শতাংশই দিয়ে দিতেন। আর এই মহতী উদ্যোগের জন্য গত শনিবার দুবাইয়ে হলিউড তারকা হুগ জ্যাকম্যানের হাত ধরে পিটারকে দেওয়া হয় গ্লোবাল টিচার প্রাইজ ২০১৯। একই সঙ্গে পুরস্কার হিসেবে তাকে দেওয়া হয় এক মিলিয়ন ডলার।
আলজাজিরাকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পিটার বলেন, ‘আফ্রিকায় প্রতিদিন আমরা একটি নতুন পৃষ্ঠা এবং একটি নতুন অধ্যায় শুরু করি। এই পুরস্কার আমার প্রাপ্য নয়, এটা এই মহাদেশের তরুণদের জন্য। আমার শিক্ষার্থীদের কারণেই আজ আমি এখানে। পুরস্কার আমাকে একটা সুযোগ দিয়েছে। বিশ্ববাসী চাইলে অনেক কিছু করতে পারে তা এই পুরস্কার বলে দেয়।’
দুবাইভিত্তিক ভার্কি ফাউন্ডেশন এ নিয়ে পাঁচ বারের মতো এই পুরস্কার দিচ্ছেন। পিটারের আত্মোৎসর্গ এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ায় তার কঠোর পরিশ্রমের কথা বিবেচনায় এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পিটার কেনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি স্কুলে পড়ান এবং দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় ওই স্কুল থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। এই কৃতিত্বের পেছনে আছেন পিটার।’
কেনিয়ার রিফট ভ্যালির পাওনি নামের একটি গ্রামে বাস করেন পিটার। ওই গ্রামে খরা আর দুর্ভিক্ষ নিত্যদিনের সঙ্গী। স্কুলের ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই চরম দরিদ্র এবং এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যই অনাথ। স্কুলটির শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রায় সময়ই না খেয়ে থাকতে হয়। কিছু শিক্ষার্থীকে স্কুলে যেতে সাত কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে যেতে হয়। বিশেষত বর্ষার মৌসুমে স্কুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। পিটারের স্কুলে প্রতি ৫৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক। স্কুলে আছে মাত্র একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার। ইন্টারনেট সুবিধা আছে না থাকার মতো। এত কিছুর মধ্যেও পিটার তার বেতনের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ব্যয় করেন। কোনো শিক্ষার্থী অর্থকষ্টে না খেয়ে থাকলে তার পাশে খাবার নিয়ে দাঁড়ান পিটার।
