নির্বাচন পর্যবেক্ষক

অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি থাইল্যান্ডের নির্বাচন

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ১০:১৮ পিএম

থাইল্যান্ডে ২০১৪ সালে সামরিক ক্যুর পর সম্প্রতি দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে মত প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল। গত রবিবারের নির্বাচনের ফলাফল এখনো প্রকাশ করেনি দেশটির নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে জালিয়াতি করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে প্রেসিডেন্ট অহেতুক বিলম্ব করছেন এমন অভিযোগ এনেছেন দেশটির অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ছাড়াও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। গত সোমবার সন্ধ্যায় থানসিন সিনাওয়াত্রা সমালোচনা করে বলেন, সেনাবাহিনী সরকার তাদের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনে জালিয়াতি করেছে। এ নিয়ে তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি নিবন্ধও লিখেছেন। থাইল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল ওপেন ফোরাম ফর ডেমোক্র্যাসি ফাউন্ডেশন (পি-নেট) অস্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছে। নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা অদক্ষ, যাদের নির্বাচনের মাত্র ৭ সাত আসে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি পোলিং স্টেশনগুলোর কর্মীদেরও কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। অনেক স্থানেই ভোট কিনে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে পি-নেট।

পৃথক এক রিপোর্টে দ্য এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (এএনএফআরই) গতকাল মঙ্গলবার জানায়, থাইলান্ডের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যথেষ্ট কমতি লক্ষ করা গেছে। ভোটের দিন প্রায় ২৮ লাখ অবৈধ ভোট পড়েছে যার উৎস সম্পর্কে জানা যায় না। ভোটের আগের রাতেই কিছু কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। ২০১৭ সালে দেশটির সেনাবাহিনী সংবিধান এমন করে সংশোধন করে যাতে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ইনস্টিটিউট অব সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ অ্যাট চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটির প্রধান থিটিয়ান পংসুধিরাক বলেন, ‘জনগণ স্বাধীনভাবেই ভোট দিতে গিয়েছিল। কিন্তু তাদের সামনে বিকল্প রাখা হয়নি যাতে তারা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের বাছাই করেছে সেনাবাহিনী। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে নতুন নির্বাচনী আইন তৈরি করেছে থাই সেনাবাহিনী।’ অসমর্থিত সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, থাকসিন সিনাওয়াত্রা সমর্থিত দল ফিউ থাই পার্টি ৩৫০টি আসনের মধ্যে ১৩৭টি পেয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত