আত্মবিশ্বাসী হতে হবে বিভিন্ন সময় নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। সেই সঙ্গে দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান পোক্ত করে নিয়েছেন তিনি। এখন বলিউডে চলচ্চিত্র প্রযোজকদের পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকেই থাকেন এই অভিনেত্রী। ফেমিনা ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন নিজের কিছু কথা। জ্যাকুলিনভক্তদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারের চৌম্বক অংশ তুলে ধরেছেন রিয়া দত্ত
মিস ইউনিভার্স শ্রীলঙ্কা থেকে সালমান খানের নায়িকা একবাক্যে এই পথচলাকে কী বলবেন?
অসাধারণ এই পথচলা।
সমালোচনার শিকার হয়েছেন অনেক সময়। তারপরও সব সময় এত অনুপ্রাণিত থাকার রহস্যটা কী?
এখন বড় ব্যানারের ফিল্মে বিখ্যাত তারকাদের সঙ্গে কাজ করছি। আর সমালোচনা করেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা, দর্শক নন। আমার ভক্ত প্রচুর। আমি তাদের জন্যই কাজ করি। আর মনে করি আমার সব কাজ সঠিক করছিলাম। তাই সমস্যা হয়নি।
ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কোন সিনেমার কথা বলবেন আপনি?
মার্ডার ২।
এখনো কি বেছে বেছে সিনেমা করছেন; নাকি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিনয়ের কথা ভাবছেন?
ক্যারিয়ারের শুরুতে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করার পদ্ধতি ভালো ফল দিয়েছে। সে সময় এই পদ্ধতি সঠিক ছিল। কিন্তু পরে চলচ্চিত্রশিল্পে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাছাবিচার করে সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ এসেছে। আর আমি সেটাই করছি।
পাঁচ বছর আগে আর আজকের জ্যাকুলিনের মধ্যে বড় পার্থক্য?
বছর-পাঁচেক আগের অভিনেত্রী কখনোই ছুটি কাটাননি। সেই সঙ্গে ছিল কাজের চাপ। কিন্তু কাজ উপভোগ্য হওয়ায় চাপটাও তখন ছিল মধুর। কিন্তু আজকের জ্যাকুলিন নিজের পছন্দের চরিত্র বা কাজ বেছে নেয়। এই স্বাধীনতাকে মুক্তি মনে হয়।
বলিউডে টিকে থাকতে গেলে কী কী গুণের প্রয়োজন বলে মনে হয়?
বলিউড খুবই শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি। তাই এখানে টিকে থাকতে গেলে আপনাকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ থাকতে হবে। পাশাপাশি শিখতে হবে চাপ নিতে। আর প্রয়োজন জনসংযোগের। এই জনসংযোগ দিয়ে দীর্ঘ পথ যাওয়া যায়। অনেক সময় এই শিল্প সৃষ্টি করে নানা প্রতিবন্ধকতার। কিন্তু একই সময় নিয়ে আসে অনেক সুযোগ। এটাই মূল কথা।
সিনেমায় একাধিক নায়িকা থাকলে নিজেকে আলাদা করেন কীভাবে?
একাধিক তারকার সিনেমায় আপনি নিজে কেমন কাজ করছেন সেটা জরুরি। আমার অনেক ফিল্ম আছে, যেখানে অনেক তারকা কাজ করেছেন। সেখানে নিজের অভিনয় ক্ষমতাবলে প্রথম সারির অভিনেত্রীর তালিকায় স্থান পেয়েছি। আর এখন নিজের সেরাটা দিচ্ছি। তাই তারকাবহুল সিনেমায় কাজ করায় ক্যারিয়ারে তেমন একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।
সোনম কাপুর ও আসিনের মতো অভিনেত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ আপনি। অভিনেত্রীদের মধ্যে বন্ধুত্ব হওয়া কি খুব কঠিন?
কারও সঙ্গেই বন্ধুত্ব হওয়াটা খুব কঠিন কিছু নয়। তবে তা নির্ভর করে মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর। বলিউডে যারা কাজ করেন, সবাই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বী মনোভাবের। তাদের শুধু উচ্চাকাক্সক্ষী বললে ভুল হবে, অতিমাত্রায় উচ্চাকাক্সক্ষী। আমি বেশ কয়েকজন ভালো মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, যারা আমাকে এ পর্যায়ে আসতে সাহায্য করেছেন। আর আমি তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেছি। আবার অনেকে বন্ধুত্বটা খেলার অংশ হিসেবে নিয়েছেন। এটার কোনো গুরুত্ব নেই আমার কাছে।
সালমান খান, অক্ষয় কুমার, রণবীর কাপুর, বরুণ ধাওয়ানের মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের সম্পর্কে কিছু বলুন?
সালমান খানের সঙ্গে দুবার কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। আমার দেখা সেরা মানুষগুলোর একজন তিনি। অনেক শিখেছি তার কাছ থেকে। অক্ষয় কুমার আমার দেখা মজার মানুষদের একজন।
তার ফিটনেস লেভেল ও নিয়মানুবর্তিতা অনুপ্রাণিত করেছে আমাকে। সকাল ৭টায় কাজ শুরু করে বিকেল ৪টার মধ্যেই শেষ করেন। সব মানুষেরই ব্যক্তিগত জীবন আছে। রণবীর খুবই আকর্ষণীয়, রসবোধসম্পন্ন ও ভীষণ মেধাবী। আর বরুণ অনেক উৎসাহ, অনুপ্রেরণা দেয়, যা নিজের সেরাটা দিতে সহায়তা করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হওয়ার ঝক্কি সামলান কীভাবে?
কিছু ক্ষেত্রে ট্রল কতটা শোভন সেটা বোঝা জরুরি। এটা খেলার একটি অংশ হিসেবে দেখি। এসবে খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজ করি। অনেক কর্মহীন আছে, যারা ট্রল উপভোগ করে। আমার সময় নেই।
নতুন তারকাদের মধ্যে কার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
ভিকি কুশল ও রাজকুমার রাও। তারা খুবই প্রতিভাবান। আমি তাদের কাছ থেকে অনেক শিখতে পারব।