বিডি জবসে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ১১:৫১ পিএম

বিডি জবসে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে হাজারের বেশি বেকার মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এই চক্রটির সঙ্গে বিডি জবসের কয়েকজন কর্মী সরাসরিভাবে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই চক্রের মূল হোতা শাহীন হায়দারসহ (৫০) চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তিরা হলেন, তাজুল (৩৪) হাসান (৩৮) ও শ্যামল (৩২)।

বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়।

এই চক্রের মূল হোতা শাহীন জালিয়াতির টাকা দিয়ে লন্ডনে একটি রেস্টুরেন্ট ও রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন ।

বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্যদের সঙ্গে বিডি জবসের কয়েকজন কর্মী সরাসরিভাবে জড়িত। প্রতারক চক্র যখন তাদের বিজ্ঞাপন আপলোড করতে বলত, তখন তারা বিজ্ঞাপন আপলোড করত। আবার বিজ্ঞাপন ডাউন করতে বললে ডাউন করত। মাঝে মাঝে প্রতারক চক্রটির কাছে বিজ্ঞাপন আপলোডের নামে বিডি জবসের কর্মীরা অধিক টাকাও দাবি করত। যে কোন চাকরির বিজ্ঞাপন আপলোড করার আগে ওই প্রতিষ্ঠানের সব নথিপত্র যাচাই বাছাই করে বিজ্ঞাপন ছাপানোর নিয়ম থাকলেও বিডি জবস তা করেনি। আমরা বিডি জবস কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা অন্যের বায়োমেট্রিক সিম অবৈধভাবে বিক্রি করে। এসব সিম দিয়েই প্রতারক চক্র জালিয়াতি করে। আমরা মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, রকেট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কারও কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলেই তাদের আটক করা হবে।

উপ-কমিশনার বলেন, এই চক্রের মূল হোতা শাহীন হায়দারের নেতৃত্বে দশ থেকে পনেরো জন এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। চক্রটিকে মোবাইলের বায়োমেট্রিক সিম সরবরাহ করত হাসান ও তাজুল। তারা অন্যের এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) ও মোবাইল সিম প্রতারক চক্রের কাছে পনেরো থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকায় বিক্রি করত। শ্যামল ভুয়া অফার লেটার, কনফার্মেশন লেটার, অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বানাতো। প্রতারক চক্রটি ব্যবহৃত সিম দিয়ে শুধুমাত্র ভুক্তভোগীদের ফোন দিত।  বিদেশে লোক পাঠানোর নামে চক্রটি কখনো ‘আলি বিন গ্রুপ’ বা ‘এবিএ গ্রুপ’ বা কাতারভিত্তিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের স্টোর ম্যানেজার কিংবা কমার্শিয়াল ম্যানেজারের পদে বাংলাদেশ থেকে লোভনীয় বেতনে সপরিবারে কাতার যাওয়ার অফার দিয়ে বিডি জবসের বিজ্ঞাপনে দিত। বিজ্ঞাপনের লিংকের মাধ্যমে আবেদন করলে আগ্রহী প্রার্থীকে ই-মেইল অ্যাড্রেস দিতে বলা হতো। প্রতারক চক্রটি পাঁচ থেকে সাত দিন পর ওই পদে আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচিত হয়েছেন এমন একটি লেটার প্রার্থীর ই-মেইলে পাঠাত। এবং জানিয়ে দিত কাতারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির একজন প্রতিনিধি বর্তমানে বাংলাদেশে আছে এবং তার মোবাইল নম্বর দিয়ে দিত।

তিনি জানান, আগ্রহী ব্যক্তি ওই প্রতিনিধিকে ফোন দিলে সে বিভিন্ন ভাষায় কখনো ইংরেজি কখনো আরবিতে কথা বলত। ওই ব্যক্তি প্রার্থীদের ব্যস্ততা দেখাত এবং জানাত পদ খালি নেই বলে ফোন কেটে দিত। এর দু-এক দিন পর আবেদনকারী ফোন করলে কিংবা না করলে তিনি নিজে ফোন করে একটা বিকাশ নম্বর দেন এবং আবেদনকারীর সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি এবং কাতার দূতাবাসের সত্যায়ন ফি বাবদ সাড়ে সাত থেকে দশ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলে প্রার্থীর ই-মেইলে অফার লেটার, কনফার্মেশন লেটার, অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাঠাত। এসবের মধ্যেও কাতারের দুই সপ্তাহের হোটেল বুকিং, পাসপোর্ট ও ভিসা প্রসেসিং, এয়ার টিকিট বাবদ প্রার্থীর কাছ থেকে তিন থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে নিত। এরপর প্রার্থী টিকিট কবে পাবে এসব বিষয়ে ফোন দিলে নম্বর বন্ধ পেত।

এসব প্রতারণার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিপ্লব সরকার আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানোর পর রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত আমাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত