বিমানে পুনে থেকে কলকাতায় ফেরার পথে কল্পনা সাহা নামের এক বাংলাদেশি নারীর জীবন বাঁচিয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক চিকিৎসক।
বিমানের ২৭ নম্বর সারিতে ছিলেন কল্পনা। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বিমানসেবিকা ফ্লাইটের ডাক্তার ডাকেন। ঘোষণা শুনে নিজের আগ্রহ থেকে এগিয়ে যান গ্রুপ ক্যাপ্টেন তিলক।
তিলক দেখতে পান ওই নারী প্রায় অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থায়। সঙ্গে তার মেয়ে।
মেয়ে জানান, মা অনেক দিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্যই পুনে গিয়েছিলেন। কলকাতা থেকে শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিলক এএফএমসি পুনে (সেনা হাসপাতাল)-তে কর্মরত। কাকতালীয়ভাবে তিনিও ফুসফুসের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। তাই তিনি নিজে চিকিৎসা শুরু করে দেন।
তিলক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি যখন মহিলার কাছে পৌঁছাই, তখন তার বেশ শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। দেখলাম, পালস খুব কম। বিমানসেবিকা মেডিকেল বক্স এনে দেন। সেখানে বিপি মেশিন ছিল। সেটা বের করে দেখার আগেই মহিলার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় পালস। কেঁদে ফেলেন পাশে থাকা মেয়ে।’
‘এরপর ২৭ নম্বর রো পুরোটা খালি করে কল্পনাদেবীকে শুইয়ে দেই। শুরু হয় হার্ট ম্যাসেজ। প্রায় এক মিনিট ধরে পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। একটানা ম্যাসেজ করার পর আবার শ্বাস নিতে শুরু করেন মহিলা।’
তিলক বলেন, ‘আমি তখন প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ খুঁজছি। মেয়ের কাছে ইনহেলার ছিল। তখন নেবুলাইজ করতে পারলে সুবিধা হতো। কিন্তু ইনহেলার তখনকার মতো সাহায্য করে। বিমানে অক্সিজেন ছিল। তা-ও দেওয়া হয়।’
এর মধ্যে বিমানে থাকা আরও দুই চিকিৎসক চলে আসেন তিলকের পাশে।
তিলক জানান, সেনাবাহিনীতে কাজ করতে গিয়ে জরুরি মুহূর্তের এসব চিকিৎসা তার আয়ত্তে এসেছে।
