জাবিতে ‘ছিনতাইকালে’ ৩ ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ০৫:০৬ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগের পাঁচজনের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে তিনজন হাতেনাতে ধরা পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের হাতে আর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন অপর দু’জন।

শনিবার ভোরে কর্মচারী আলমগীর হোসেনের জামাতা মনির সরদারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে ছিনতাই ও মারধরের ঘটনাটি ঘটান অভিযুক্তরা। আটককৃত তিন ছাত্রলীগ কর্মী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সঞ্জয় ঘোষ, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের রায়হান পাটোয়ারী এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল রাজী।

এ ছাড়া পালিয়ে যাওয়া দুই ছাত্রলীগকর্মী হলেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শাহ মুসতাক সৈকত ও দর্শন বিভাগ ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোর্কারম শিবলু।

এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রায়হান পাটোয়ারী আগের একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় সঞ্জয় ঘোষ, রায়হান পাটোয়ারী ও আল রাজী শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী। এ ছাড়া মোর্কারম শিবলু বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের ফুপাতো ভাই ও ছাত্রলীগ কর্মী। এ ছাড়া সৈকত সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লার অনুসারী।

ভুক্তভোগীর আত্মীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ভোরে মনির হোসেন ঢাকা যাওয়ার জন্য বিশমাইল এলাকা পার হওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাকে ধরে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে তাকে ইজিবাইক যোগে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে নিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করে মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে যান। কর্মচারীরা তিনজনকে আটক করে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে সোপর্দ করেন।

অভিযুক্ত সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘আমি জুনিয়রদের ফোন পেয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে যাই। আমি বিষয়টি জানতাম না। গিয়ে দেখি, ওরা তাকে মারধর করেছে। তবে ছিনতাই ও মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি।’

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘বিষয়টা আমি শুনেছি। ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনেরও দায়িত্ব আছে। তবে আমি সঞ্জয়কে ছাড়া বাকিদের চিনি না।’ সঞ্জয় ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন বলে স্বীকার করেন জুয়েল। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। রোববার বিকেলে জরুরি ডিসিপ্লিন বোর্ড বসবে। তারপর কালকেই সিন্ডিকেট বসবে, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত