বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়ার ‘ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বিদায়ী সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
তিনি বলেন, সরকারের দ্বারা বিএসএমএমইউকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ নেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে সমিতির বর্তমান কমিটির বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, প্যারোল নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার পরিবারের কেউ কিংবা বিএনপি সরকারের কাছে কোনো আবেদন করেনি। এ নিয়ে সরকারও কোনো প্রস্তাব দেয়নি।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমরা পত্রিকায় দেখেছি। সরকার এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দিয়েছে বলেও আমরা শুনিনি। তিনি (খালেদা জিয়া) নিজে, তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো কথা বলেননি বা আবেদন করেনি। আমরা আইনগতভাবে তার মুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ আইনজীবী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকারের সদিচ্ছা নেই। রাজনৈতিক মামলা দিয়ে তাকে দীর্ঘদিন কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি অসুস্থ। তাকে দিন দিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’
জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, ‘কোনো মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। কুমিল্লার মামলায় সব আসামি ইতিমধ্যে জামিনে বেরিয়ে গেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল করেনি। আর খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার পরই আপিল করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল তো রাষ্ট্রের। কিন্তু তিনি সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির বিদায়ী কমিটির নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়টি তুলে ধরেন জয়নুল আবেদীন। এ সময় আগাম জামিন নিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ফলে বেঞ্চগুলো আগাম জামিন দিচ্ছে। বিচারপ্রার্থী মানুষেরা এখন বিচার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘প্যারোলের বিষয়ে খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো দরখাস্ত দেওয়া হয়নি। তার অসুস্থতার বিষয়টি ভিন্ন দিকে নিতে এটি কৌশল হতে পারে।’
